ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন রক্ষাকারী রেডিওথেরাপি সেবা বর্তমানে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় এক চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালে অধিকাংশ মেশিন বিকল থাকায় এবং দীর্ঘ জট তৈরি হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসূচী গিয়ে ঠেকেছে ২০২৮ সালে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় ‘গোল্ডেন আওয়ারে’ই আটকে যাচ্ছে হাজারো মানুষের জীবন।
দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। ৭০ বছর বয়সী ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত লুৎফুন্নেছা লিলির মতো বহু রোগী মাসের পর মাস সিরিয়ালের আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে পান খাওয়ার অভ্যাসের কারণে তার শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় রেডিওথেরাপির তারিখ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নতুন করে কোনো সিরিয়ালই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীর আক্রান্ত অংশে সরাসরি রেডিয়েশন প্রয়োগ করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। সময়মতো এই চিকিৎসা না পেলে ক্যান্সার মেটাস্টেসিস হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুও ঘটে। জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক ডা. সুমন আজিজ জানান, দেশে ন্যূনতম ২০০টি রেডিওথেরাপি মেশিনের প্রয়োজন থাকলেও সরকারি হাসপাতালে কার্যকর রয়েছে মাত্র ৭টি। এর মধ্যে ৫টির মেয়াদ চার-পাঁচ বছর আগেই শেষ হওয়ায় সেগুলো অকশনের অপেক্ষায় রয়েছে, আর বাকিগুলোতেও অতি পুরোনো প্রযুক্তির কোবাল্ট মেশিন দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয় ক্যান্সারে। এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, খুব দ্রুত প্রায় দুই ডজনের মতো নতুন মেশিন আমদানি করা হবে এবং রোগীদের ঢাকায় আসার ভোগান্তি কমাতে সেবাগুলো বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। চিকিৎসকদের মতে, নীতিনির্ধারক মহলের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানো সম্ভব নয়।