মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং পণ্য পরিবহনে বাড়তি ঝুঁকির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা দানা বেঁধেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বর্তমানে ১০৩ মার্কিন ডলারের ওপরে লেনদেন হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জ্বালানি তেল বা ডব্লিউটিআই (WTI) এর দামও ৯০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহের তুলনায় হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোতে হামলার তীব্রতা রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো তাদের তেল রপ্তানি বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিলেও সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রে নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তাঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে জাহাজ ভাড়া এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি তেল উৎপাদক দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত মজুতের পরিসংখ্যানি তথ্যও বাজারদর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। গত ২ অক্টোবর সমাপ্ত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্যিক মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়ে মোট ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। চাহিদার তুলনায় আকস্মিক এই মজুত হ্রাসের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা পঞ্জিকার এই সময়ে তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।