ইয়েমেনে চলমান তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের চূড়ান্ত পতন এবং দেশজুড়ে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। লন্ডনভিত্তিক আরবি দৈনিক আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা।
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তাঁরা শান্তিকে বর্জন করেননি, তবে এমন কোনো বিভ্রমের দীর্ঘস্থায়ী পরিণতি আর মেনে নেবেন না যা রাষ্ট্রবিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার সুযোগ দেয়। জনগণের অধিকার কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর মর্জির ওপর স্থগিত থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি হুথিদের সম্পূর্ণ পতনকে বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বুই মনসুর হাদি সৌদিতে আশ্রয় নেন এবং তাঁকে পুনর্প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। বর্তমানে সানা ও উত্তরাঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের অধীনে রয়েছে।
এদিকে বিগত চার বছর ধরে স্থিতিশীলতা বজায় থাকার পর গত জুলাইয়ে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘর্ষের জেরে দুপক্ষের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে কৌশলগত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানির ১২ শতাংশ পরিবাহিত হওয়া এই প্রণালির নিরাপত্তা ইয়েমেনের উপকূলীয় অঞ্চল থেকেই নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন আফরাহ আল-জৌবা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত স্থলভাগ থেকে এই প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, ততক্ষণ সমুদ্রে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত করা অসম্ভব। এছাড়া ইয়েমেনের সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবের বহুমুখী রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
সূত্র: আরব নিউজ