চীন থেকে ধেয়ে আসা অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন এবং সস্তা পণ্যের সয়লাবের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিজস্ব উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়া এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এই বিপর্যয় রোধে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের ৪৪টি শীর্ষস্থানীয় শিল্প সংস্থা। ব্রাসেলসে আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগে ধাতু, রাসায়নিক ও যন্ত্রাংশ খাতের এই শিল্প জোটগুলো কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, চীনা পণ্যের এই আগ্রাসন অবিলম্বে প্রতিহত করা না গেলে পুরো ইউরোপীয় শিল্পকাঠামো চিরতরে ভেঙে পড়তে পারে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক এক সপ্তাহ আগে সামনে আসা এই তথ্যে দেখা গেছে, বর্তমানে ইইউ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি প্রতিদিন ১০০ কোটি ইউরোরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এই রেকর্ড বৈষম্য নিরসনে শিল্প সংস্থাগুলো ইউরোপীয় কমিশনকে হাত গুটিয়ে বসে না থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষার সমস্ত হাতিয়ার অবিলম্বে শতভাগ কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।
শুধু সুনির্দিষ্ট শেষ পণ্যের ওপর নজর না দিয়ে পুরো সরবরাহব্যবস্থা বা ‘ভ্যালু চেইন’ বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন শিল্প মালিকরা। একই সঙ্গে ব্রিটেন, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডের মতো কৌশলগত ইউরোপীয় অংশীদাররা যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাবের মুখে না পড়ে, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসন্ন ব্রাসেলস শীর্ষ সম্মেলনে বাণিজ্য প্রতিরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ প্রস্তাব এবং ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের ফল নিয়ে বিশদ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে চীনা হাইব্রিড গাড়ির জোয়ার ঠেকাতে বেইজিংয়ের ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন এবং চীনা বাজার বিকৃতি মোকাবিলায় একদম নতুন আইনি হাতিয়ার তৈরির দাবি তুলেছেন শিল্প নেতারা। এখন দেখার বিষয় ব্রাসেলস শীর্ষ বৈঠক থেকে চীনা পণ্যের ওপর আরও বড় কোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা বাধা আসে কি না।
সূত্র: রয়টার্স