আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা জেন-জি ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে রাজপথে নামতেই আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল-কে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। নজিরবিহীন এই ক্র্যাকডাউনের অংশ হিসেবে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে দিল্লির লোধি এস্টেটে তাঁর নিজ বাসভবনের সামনে থেকে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইন্ডিয়া' ও 'দ্য হিন্দু'-র আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিবাদে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন সমর্থন করে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ নেতারা সোচ্চার হতেই একের পর এক সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করার ঘটনা ঘটছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটকের মধ্য দিয়ে আজ একই দিনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের চারজন প্রবীণ ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার ও আটক করল ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে জেন-জি নেতৃত্বাধীন এই সর্বভারতীয় আন্দোলন রুখতে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন-কেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। শীর্ষ বিরোধী নেতাদের ঢালাওভাবে আটক ও দমনপীড়নের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মন্তব্য করেছেন, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার নগ্ন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার চূড়ান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে শীর্ষ বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের এই পতনমুখী স্বৈরাচারী শাসনের বিদায়ের পরপরই দেশজুড়ে পুনরায় গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও মুখ্যমন্ত্রীকে আটকের ঘটনার পর দিল্লি এখন থমথমে রাজনৈতিক বন্দিশিবিরে পরিণত হয়েছে।