এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও নানা অনিয়মের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের এ সিদ্ধান্তের ফলে দুই দিন সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকতে পারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, গ্যাসের দাম ও সরবরাহ নিয়ে হয়রানি বন্ধসহ তাঁদের বিভিন্ন দাবি মেনে নিতে হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সমিতির সভাপতি সেলিম খান।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম খান বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ ও সরবরাহ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যার প্রতিবাদ জানাতেই আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া মেনে না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম অভিযোগ করেন, মাত্র পাঁচটি কোম্পানির হাতে এলপিজি সিলিন্ডারের বিপণন কার্যক্রম জিম্মি হয়ে রয়েছে। এসব কোম্পানির মাধ্যমে স্বৈরাচারী কায়দায় এলপিজির দাম বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের এ ঘোষণার মধ্যে এলপিজির দাম বৃদ্ধি ও বাজারে নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার না পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই সঙ্গে ১২ কেজির বাইরেও অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়।
তবে সরকার নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাদের কোথাও কোথাও ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, এমনকি ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারমূল্যের এই ব্যবধান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাম ও সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যার পাশাপাশি তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির মুখেও পড়তে হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ এলপিজির ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে কর্মসূচি চলাকালে সরবরাহব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।