সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ৫১টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ১২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের এসব ফ্লাইটে যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট—উভয় ধরনের ফ্লাইটের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ৫১টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিঘ্নিত সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি ফ্লাইট। সব মিলিয়ে এসব এয়ারলাইনসের ১২টি সরাসরি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। বেবিচকের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাই দুবাইয়ের পাঁচটি ট্রানজিট ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এসব এয়ারলাইনসের মোট ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১টিতে। এসব ফ্লাইটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বেবিচক।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও গন্তব্য। দেশটিতে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি চাকরি, ব্যবসা, ওমরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াত করেন বহু বাংলাদেশি। এ কারণে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হলে বাংলাদেশ থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মধ্যে কতজনের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে, কতজনের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে কিংবা কতজনকে বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে বিমান চলাচল কতটা স্বাভাবিক হবে। এ অবস্থায় যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের সৌদি আরবগামী সরাসরি বা ট্রানজিট ফ্লাইটে যাত্রার কথা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার সময়সূচি নিশ্চিত হয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়া প্রয়োজন।