ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,  ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পায়রায় একযোগে ৩৫টি নৌকায় ইলিশ শিকার


  • আপলোড সময় : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:০৩ পিএম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি 

সরকারি সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের নামকাওয়াস্তে অভিযানের মাঝেই পটুয়াখালীর দুমকীর পায়রা নদীতে চলছে প্রকাশ্য ইলিশ শিকারের মহোৎসব। সরকারি আদেশকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৩০ থেকে ৩৫টি দ্রুতগামী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকা নিয়ে দলবেঁধে নদীতে জাল ফেলছেন অসাধু জেলেরা। দিনের আলোতেই প্রকাশ্যে এমন ইলিশ নিধনের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের তদারকি ও লোকদেখানো অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।


রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া এলাকার হাজিরহাট ও রাজাগঞ্জের মধ্যবর্তী পায়রা নদী পয়েন্টে দেখা যায় মা-ইলিশ শিকারের এমন ভয়াবহ চিত্র। অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু পায়রা নদীই নয়; বরং পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর একাধিক পয়েন্টেও সমানতালে চলছে অবৈধ ইলিশ শিকার। এছাড়া আলগী, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও মুরাদিয়া উপকূলীয় এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার হিড়িক পড়েছে।


অসাধু জেলেদের কৌশল সম্পর্কে জানা যায়, তারা অত্যন্ত শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করায় দূর থেকে প্রশাসনিক টহল দলের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে নিরাপদ আশ্রয়ে সটকে পড়ছে। অন্যদিকে নদীতীরবর্তী লেবুখালী ফেরিঘাট, হাজিরহাট, আঙ্গারিয়া বন্দর ও পাতাবুনিয়াসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বরফের বাক্সে করে তাজা ইলিশ মজুত রাখা হচ্ছে এবং গোপনে তা উচ্চমূল্যে বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


ইতিমধ্যে গত ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে দুটি ট্রলার ও ১১ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দের কথা জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য দফতর। তবে জনবল সংকট ও মাত্র একটি টহল দল থাকায় পুরো নদীতে একই সময়ে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সাফাই গেয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। অন্যদিকে দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে অবাধে প্রজননক্ষম ইলিশ ধ্বংস হতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশের এই জাতীয় সম্পদে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে; তাই কেবল আইওয়াশ অভিযান নয়, অবিলম্বে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চালানো প্রয়োজন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর