ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,  ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা

টানা আট দিন বন্ধ থাকছে বেনাপোল বন্দর, ২৫ অক্টোবর থেকে ফের চালু বাণিজ্য


  • আপলোড সময় : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:০৭ পিএম

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশের প্রধান বাণিজ্যদ্বার বেনাপোল স্থলবন্দর। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সীমান্ত দিয়ে টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।


বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনিসহ বন্দর ব্যবহারকারী সূত্রে জানা যায়, ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই ছুটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দুর্গাপূজার সুনির্দিষ্ট সরকারি ছুটির কারণে ভারতের পেট্রাপোল অংশে আগামী ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন বন্দরের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্থানীয় সাপ্তাহিক ছুটি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ছুটির সমন্বয় করে আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বেনাপোল বন্দরে বাণিজ্যিক আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখা হচ্ছে। উভয় দেশের ছুটির এই ধারাবাহিকতায় সবমিলিয়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলপথে দীর্ঘ আট দিন বাণিজ্য কার্যক্রম স্থবির থাকবে। তবে উভয় দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়ায় আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম সীমিত পরিসরে সচল থাকবে। পরবর্তীতে ২৫ অক্টোবর (রবিবার) সকাল থেকে পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।


ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালনকারী এই রুট দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিনশ পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রায় একশ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে ভারত থেকে আমদানিকৃত মোট পণ্যের প্রায় ৮০ ভাগই এই পথ দিয়ে আসে। দীর্ঘ আট দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এবং নিত্যপণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি, টানা ছুটির পর দুই দেশের বন্দর এলাকায় তীব্র পণ্যজট ও দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, ওপারের কাস্টমস ও দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে ছুটির বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হয়েছে। বন্ধের দিনগুলোতে বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতীয় ট্রাক চালকরা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন। এছাড়া বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, পূজার ছুটিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও চিকিৎসা, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজে যাতায়াতকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে বর্ডার অতিক্রম করতে পারবেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর