ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,  ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২০ অক্টোবর জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজে ইউএই-এর জাহাজডুবি: সমুদ্রে ভাসছে আইফোন ও দামি সুগন্ধি ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিকল্পনা: মন্ত্রী পূজার আলপনা না বিপজ্জনক ফাঁদ? ফ্লাইওভারে বাইক চলাচল বন্ধ জয়দেবপুরে আসামি ছিনাতে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আহত ২ দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ঢাকা বিভাগে ৫১ হাজার ৪৪২ আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন আধুনিক বাংলা সুরের রূপকার হাবিব ওয়াহিদের জন্মদিন আজ নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে মারধর ক্ষুধা-দারিদ্র্যে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে পাকিস্তান ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সেনা মোতায়েন

হাসিনার দুপুরের খরচ সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায়: চিফ হুইপ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:১৩ পিএম

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তার কার্যালয় থেকে প্রতিদিনের দুপুরের খাবারের পেছনেই প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো, যা হিসাব করলে বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাত্র ১৫০ টাকার মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ করেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ৮ দিনের এক সরকারি সফরে বরগুনায় এসে স্থানীয় সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব বিস্ফোরক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।


বরগুনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিদিন দুপুরে সাড়ে ১০ লাখ টাকা আর বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচের রেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু তারেক রহমান একেবারেই সাধারণ ও সাদামাটা জীবনযাপন করছেন। তিনি কিছুদিন আগে নিজেই প্রতিজ্ঞা করে বলেছেন যে, ‘যতদিন আমি দায়িত্বে আছি, দেশের একটি টাকাও আমার হাত দিয়ে অপচয় বা নষ্ট হতে দেব না।’ চিফ হুইপ আরও যোগ করেন, গত পরশু দিন তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর সাথে একই টেবিলে দুপুরের খাবার খেয়েছেন, যেখানে মেন্যুতে ছিল মাত্র ঢ্যাঁড়শ ভাজি, মিষ্টি কুমড়া ভর্তা ও সাধারণ ডাল। তিনি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হাশরের ময়দানে আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক রূপ না দেখে অন্তরের ঈমান দেখে বিচার করবেন; ঠিক একইভাবে জনগণেরও তারেক রহমানের সাদামাটা হৃদয় ও নীতিকে মূল্যায়ন করা উচিত।


সংবাদ সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষ্যে কথা বলতে গিয়ে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আয়োজিত স্পেশাল এক রুদ্ধদ্বার সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দলীয় নেতাদের নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর বার্তা জারি করেছেন। ওই বিশেষ সভায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, টানা ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করে রাজপথে যুদ্ধ করা ত্যাগী কর্মীরাই দলের আসল শক্তি। তাই এমপি বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই চরম কর্মী বান্ধব হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী একইসাথে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘কোনো ধরনের চাঁদাবাজির স্থান নেই; নো চাঁদাবাজি, নো দখল এবং নো সন্ত্রাস।’ এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সরকার কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের বহিষ্কৃত এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির প্রসঙ্গ তুলে চিফ হুইপ বলেন, বহিষ্কারের চেয়ে বড় কথা হলো তার বিরুদ্ধে কঠিন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও আসন্ন নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মার্কা তুলে দেওয়া হয়েছে, যেন কোনো প্রতীকভিত্তিক সম্পর্ক নষ্ট বা শত্রুতা তৈরি না হয়। নির্বাচনে কোনো ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো দলীয় মার্কা থাকবে না। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও উৎসবমুখর পরিবেশে জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি যদি অন্য দল বা রাজনীতি নাও করেন, তবুও যেন নির্বাচিত হতে বাধা না থাকে, সেই উন্মুক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক পটভূমি টেনে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যখন দায়িত্ব নেন, তখন দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও বাকশালের আমল ছিল, যা থেকে মাত্র তিন বছরে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে বিদেশে চাল রপ্তানির উপযোগী করেছিলেন। আর গত ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী শাসনে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতন্ত্রকে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর