যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরের ভয়াবহ বন্দুক হামলায় এক শিক্ষক ও ৩ শিশুসহ অন্তত ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বেন্ড শহরের 'সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুল'-এ এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় আরও এক শিশু ও এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে চরম আশঙ্কাজনক। পরে স্থানীয় এক বীর বাসিন্দার ছোঁড়া গুলিতে হামলাকারী কিশোর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টিতে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চারশো শিশু শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।
বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রানৎজ এক ব্রিফিংয়ে জানান, সকালে ১৬ বছর বয়সী সশস্ত্র কিশোরটি তালাবদ্ধ গেট ভেঙে বেপরোয়া গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভেতরে প্রবেশ করে। তার নির্বিচার গুলিতে ৫, ৮ ও ১১ বছর বয়সী ৩টি কোমলমতি শিশু এবং একজন শিক্ষক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় ৭ বছরের এক শিশু ও অপর এক শিক্ষক গুলিবিদ্ধ হন। কিশোরটিকে সশস্ত্র অবস্থায় ভেতরে ঢুকতে দেখে স্থানীয় এক সাহসী বাসিন্দা তার পিছু নেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণ রক্ষার্থে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারী কিশোরটি মারা যায়। ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে আসেন ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক এবং এই করুণ ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বন্দুক হামলা এক ভয়াবহ ও নিত্যদিনের মহামারি রূপ নিয়েছে। মার্কিন অলাভজনক গবেষণা সংস্থা 'গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ'-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬০টিরও বেশি ভয়াবহ গণ-গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কেবল বন্দুক সহিংসতার কারণে দেশটিতে ২ হাজার ৭৩৩ জনেরও বেশি মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স