ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,  ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুব উন্নয়নের নিয়োগে প্রশ্নফাঁস: এনবিআর ও সরকারি দপ্তরের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭ মোদি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিজেপির বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চুরি হওয়া আরও ৩ লাখ টাকা উদ্ধার দিল্লিতে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ফের আটক রাজনৈতিক দুনিয়ায় কাউকে বিশ্বাস করি না: নিউজম্যাক্সে বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্পের সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা উত্তোলন রুখতে দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ঋণের চাপ সামলাতে আর্থিক সংস্কারের তাগিদ আইএমএফের সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা উত্তোলনের ডাক: সিজেপি প্রধান দিপকের বাড়িতে দিল্লি পুলিশ আটকের ১৫ ঘণ্টা পর দুই পুলিশকে ফেরত দিলো বিএসএফ শত ব্যস্ততার মাঝেও সাধারণ মানুষের দুয়ারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

যুব উন্নয়নের নিয়োগে প্রশ্নফাঁস: এনবিআর ও সরকারি দপ্তরের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ১০:০৬ পিএম

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের বাছাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক পর্যায়ের কর্মচারীরা সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্যপদে ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগের মুহূর্তে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নফাঁসের তথ্য পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা দায়েরের পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।


গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (৩৮), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩)। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পেয়ে সকালে চক্রের অন্য সদস্য জাহাঙ্গীরের সহায়তায় সম্পূর্ণ স্পষ্ট প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে উত্তরপত্র তৈরি করে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।


অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১ সেট প্রশ্নপত্র, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা, ১টি পৃথক ব্যাংক চেক, ১০০ ও ৫০ টাকার ১২০টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ক্যাটাগরির ২৫টি শিক্ষাগত সনদ ও এনআইডি কার্ড, ৮টি স্মার্টফোন এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। এসআরবি জানিয়েছে, এর আগে মফিজুল নামের এক আসামি নিজে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের লোভে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের গভীরে পৌঁছাতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর