ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,  ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুব উন্নয়নের নিয়োগে প্রশ্নফাঁস: এনবিআর ও সরকারি দপ্তরের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭ মোদি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিজেপির বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চুরি হওয়া আরও ৩ লাখ টাকা উদ্ধার দিল্লিতে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ফের আটক রাজনৈতিক দুনিয়ায় কাউকে বিশ্বাস করি না: নিউজম্যাক্সে বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্পের সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা উত্তোলন রুখতে দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ঋণের চাপ সামলাতে আর্থিক সংস্কারের তাগিদ আইএমএফের সেন্ট্রাল পার্কে পতাকা উত্তোলনের ডাক: সিজেপি প্রধান দিপকের বাড়িতে দিল্লি পুলিশ আটকের ১৫ ঘণ্টা পর দুই পুলিশকে ফেরত দিলো বিএসএফ শত ব্যস্ততার মাঝেও সাধারণ মানুষের দুয়ারে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

'জিপিএ-৫ এর পেছনে দৌড়ানোর দিন শেষ, মেধা দিয়ে দেশ গড়বে তরুণরা'


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ২:৫৫ পিএম

আজকের উদীয়মান তরুণ সমাজের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আগামীর একটি সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এমন এক বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি, যেখানে আইনের পূর্ণ শাসন, স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকবে এবং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।


শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।


ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তরুণদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেন, প্রচলিত জিপিএ-৫ পাওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতার দিন এখন শেষ হয়ে গেছে। তরুণ প্রজন্ম যদি তাদের ভেতরের অসীম মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে একটি ইতিবাচক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারায় কাজে লাগাতে পারে, তবেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পাবো। তিনি এমন এক সমাজ গঠনের ওপর জোর দেন, যেখানে সাধারণ মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চায় এগিয়ে আসবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রতিটি বড় আন্দোলনে সর্বদা সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এ দেশের তরুণ সমাজ।


জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক চূড়ান্ত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা বুকের রক্ত দিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সিংহভাগই ছিলেন তেজস্বী তরুণ। সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও বৈষম্যহীন সমতার সুযোগ নিশ্চিত করতে তরুণরা সবসময় আপসহীন সংগ্রাম করেছে। তিনি আফসোস প্রকাশ করে বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে ক্রমান্বয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। ভেঙে পড়া এই রাষ্ট্রকে পুনরায় সুসংগঠিত করে একটি বিশ্বমানের উন্নত বাংলাদেশে রূপান্তর করতে তরুণ সমাজকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


আন্তর্জাতিক পড়ালেখার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গমনকারী শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি অর্জন শেষে দেশে ফিরে এসে নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্বের হাল ধরার বিশেষ আহ্বান জানান। একই সাথে দেশ থেকে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতি উচ্ছেদ করতে তরুণদের একযোগে জোরালো আওয়াজ তোলার পরামর্শ দেন। তরুণদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা অর্জনে সংসদের অধিবেশন সরাসরি প্রত্যক্ষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। যুক্তি ও সহনশীলতার বার্তা দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, রাজনীতি ও নীতি নির্ধারণে ভিন্নমত বা দ্বিমত থাকা খুবই স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের যুক্তি অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে। সত্যিকারের সুযোগ্য নেতৃত্বের মূল অর্থ হলো অন্যকেও কথা বলার ও মত প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া, যার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং গঠনমূলক সহযোগিতা সম্ভব হয়।


উল্লেখ্য, দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ জন তরুণ প্রতিনিধির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সের প্রথম দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র‍্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।


এ সম্পর্কিত আরো খবর