আজ শনিবার (০৭ নভেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে অংশ নিতে এসে তীব্র গরমের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য। নিহতদের পরিবারকে নগদ তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে গ্রাম পুলিশের চাকরিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মহাসমাবেশে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় হাজির হন হাজার হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য। তবে প্রখর রোদের তাপদাহ ও তীব্র গরমে সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর পথেই কয়েকজন সদস্য চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত দুই সদস্য হলেন— রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মো: জমসেদ আলী (৪৭) এবং ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুরাইন ইউনিয়নের মো. কাইমুদ্দিন (৫৮)। ঘটনার পরপরই নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় এবং পরিবারে গভীর শোক ও মাতমের ছায়া নেমে এসেছে।
সমাবেশের কর্মসূচি শেষ করেই প্রতিশ্রুত দায়িত্ববোধ থেকে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর Shahে আলম। তিনি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ ও আহত সদস্যদের সরাসরি দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি উপস্থিত চিকিৎসকদের সর্বোত্তম ও সর্বাত্মক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, চিকিৎসাধীন সকল গ্রাম পুলিশ সদস্যের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে। অসুস্থরা যেন কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি না হন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সময় প্রতিমন্ত্রী নিহত জমসেদ আলী ও কাইমুদ্দিনের স্বজনদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অবিলম্বে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।
এর পাশাপাশি নিহত পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার দিক বিবেচনা করে প্রত্যেকের পরিবার থেকে একজন যোগ্য সদস্যকে গ্রাম পুলিশের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। একই সাথে নিহত ২ কর্মবীর সদস্যের মরদেহ সম্পূর্ণ সরকারি খরচে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানো এবং তাদের দাফন-কাফনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। এই ঘটনার পর ঢাকায় আগত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা ও সার্বিক সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।