দেশের তৃণমূল পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনপদকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা অপরিসীম—এই উপলব্ধি থেকেই তাদের জীবনমান উন্নয়নে যুগান্তকারী এক ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (০৭ নভেম্বর, ২০২৬) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের এক বিশাল মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়ন সুরক্ষিত থাকলেই কেবল একটি নিরাপদ ও কল্যাণমূলক বাংলাদেশ গড়ে ওঠা সম্ভব।
আজ শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্যারেড গ্রাউন্ডে পা রেখেই সারাদেশ থেকে আগত প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে মূল মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও একটি আকর্ষণীয় প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।
মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ঘোষণা দেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে একজন সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্য মাসিক ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রাম পুলিশের প্রধান ১১ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি সদস্যদের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সুবধিার্থে প্রতি মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল বিল দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়, যা আজ শনিবার থেকেই কার্যকর হবে।
শুধু মূল বেতন বা মোবাইল বিল নয়, অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন আনুতোষিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা এবং গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে তা ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া থানায় যাতায়াত ভাতা সপ্তাহে ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাধারণ সদস্যদের জন্য ৫০০ টাকা এবং প্রধানদের জন্য ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেশাগত মর্যাদার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন থেকে মহল্লাদার ও দফাদার পরিচিতি বদলে যথাক্রমে 'গ্রাম পুলিশ সদস্য' ও 'গ্রাম পুলিশ প্রধান' হিসেবে তাদের অভিহিত করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নতুন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, নারী কর্মীদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশদের নামে নামকরণের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে গাছ লাগিয়ে সেই গাছ বিক্রির লভ্যাংশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন সদস্যদের মধ্যে বিতরণের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাইকেল বিতরণের মেয়াদ কমিয়ে এখন থেকে প্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পর পর নতুন সাইকেল দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় গ্রাম পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বৃক্ষরোপণে গ্রাম পুলিশদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠান শেষে দেশের ৮ বিভাগ থেকে সেরা ৮ জন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাসমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।