রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আয়োজিত বৈঠকের বিরতিতে দলটির পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই বৈঠক করছে কমিশন।
জামায়াতে
ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ
আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে জুলাই
সনদ বাস্তবায়নের পাঁচটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে জামায়াতের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব
আছে। আশা করি এই
৫টি প্রস্তাবের মধ্যে আমরা কাছাকাছি আসতে
পারব এবং জুলাই সনদের
আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে। জুলাই
সনদের ভিত্তিতেই আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতের
প্রস্তাবের প্রসঙ্গে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আমরা
একটি বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা
বলেছি। অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশন যেসব বিষয়ে একমত
হয়েছে, সেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে একটি বিশেষ
সাংবিধানিক আদেশ জারি করে
তাকে সংবিধানের উপরে প্রাধান্য দেওয়া
হবে। অন্য সব ক্ষেত্রে
সংবিধান যেমন আছে তেমনি
বহাল থাকবে।
তিনি
বলেন, ৫ আগস্ট জনগণের
ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সেই ইচ্ছার বাস্তবায়নের
জন্যই সব আলোচনা চলছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর যখন কোনো
সংবিধান বা সরকার ছিল
না, বিচার বিভাগও ছিল না— তখন
সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জনগণের ইচ্ছাই কার্যকর ছিল।
সংবিধানের
অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী জনগণের
ইচ্ছার যে চরম বহিঃপ্রকাশ,
সেটিকে একটি বিশেষ আদেশের
মাধ্যমে প্রাধান্য দেওয়া হলে আগামী নির্বাচন
এর অধীনে আয়োজনে কোনো বাধা থাকবে
না বলে দাবি করেন
শিশির মনির।
তিনি
আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সংবিধানের ১৫৩
অনুচ্ছেদের মধ্যে ৫৭টি ইতোমধ্যে অকার্যকর
হয়ে গেছে। এজন্যই আমরা বলেছি, একটি
বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি করে
৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হিসেবে
দেখাতে হবে।
এক
প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, বিকল্প হিসেবে গণভোটের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদি
বিশেষ সাংবিধানিক আইন জারির মাধ্যমে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব
না হয়, তবে তা
গণভোটের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।
আকাশজমিন/আরআর