ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খোঁজ পেলেই ৭ দণ্ডপ্রাপ্তকে গ্রেপ্তার করে আনা হবে: চিফ প্রসিকিউটর সরকারি অফিসে ‘স্যার’ বলা বাধ্যতামূলক করা খুবই খারাপ: তথ্য উপদেষ্টা জুলাই গণহত্যায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না: মীর শাহে আলম মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদের ও আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে? যুদ্ধ শেষে ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের ৫০ পেরিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন জেমিমা গোল্ডস্মিথ গ্রিসে নৌকা ডুবে ১ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, নিখোঁজ ২৫ আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ

কোটালীপাড়ায় ছাদের পানি নিয়ে বিরোধে ভাই খুন


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:০৪ পিএম

কোটালীপাড়া(গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাই ভাইপোদের হাতে আনন্দ ঘোষ (৪৫) নামের এক মুদি ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন। ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী মিতা ঘোষ (৩৫)। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার উনশিয়া গ্রামের ঘোষবাড়িতে ঘটনা ঘটে। আনন্দ ঘোষ উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামের মৃত সুধীর ঘোষের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে আনন্দ ঘোষ ছিলেন সেজো ভাই। বাকি ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঘরের ছাদের পানি পড়া নিয়ে তার বিরোধ চলছিল।

কোটালীপাড়া থানা পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ ঘোষের বাড়ির ছাদ থেকে পানি পড়ে চলাচলের রাস্তা কর্দমাক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইদের সঙ্গে বিবাদ চলছিল। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিয়ে আনন্দ ঘোষের স্ত্রী মিতা ঘোষের সঙ্গে মেঝভাই কালাচাঁদ ঘোষের ছেলে সৌরভ ঘোষ নয়ন ঘোষের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা মিতা ঘোষকে কিলঘুষি মারে। এসময় আনন্দ ঘোষ এগিয়ে এলে তার বড় দুই ভাই কালাচাঁদ ঘোষ, যুগল ঘোষ কালাচাঁদের দুই ছেলে কাঠের লাকড়ি দিয়ে তাকে পেটায়। মুমূর্ষু অবস্থায় আনন্দ ঘোষকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 সরেজমিনে সোমবার সকালে আনন্দ ঘোষের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। নিহতের নবম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে অথৈ ঘোষ বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমার আর নার্স হওয়া হলো না। বাবার খুব শখ ছিল আমাকে নার্স বানানোর। আমার আপন কাকা আর কাকাতো ভাইয়েরা বাবাকে খুন করে ফেললো। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, “ছাদের পানি পড়াকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। কিন্তু কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন পর্যন্ত হলো।”  বিষয়ে জানতে আনন্দ ঘোষের অপর চার ভাই গৌরাঙ্গ ঘোষ, কালাচাঁদ ঘোষ, যুগল ঘোষ মিলন ঘোষকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাখাওয়াত হোসেন সেন্টু স্যারসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। ঘটনার পর থেকে জড়িতরা পলাতক রয়েছে।” তিনি আরও জানান, ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 আকাশজমিন/আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর