ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

বিশ্ব শিক্ষক দিবস: আলোর পথে শিক্ষকের ভূমিকা


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৩:৫৩ পিএম

রফিকুল ইসলাম রাজু

শিক্ষা মানব সভ্যতার অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। এই শিক্ষা মানুষের ভেতর জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা মানবিকতার বীজ বপন করে। আর সেই জ্ঞানের আলো মানুষকে পৌঁছে দেন শিক্ষক। শিক্ষকের অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই প্রতিবছর অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো প্রথমবারের মতো দিনটি পালনের সূচনা করে, যার লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী শিক্ষকদের সম্মান জানানো, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা তুলে ধরা।


শিক্ষক শুধু পাঠ্যপুস্তকের অক্ষর শেখান না, তিনি মানুষের চরিত্র গঠন করেন, মানুষকে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার মতো শক্তি জোগান। আমাদের সমাজে যেমন বলা হয়—“শিক্ষক হলেন জাতির আলোকবর্তিকা।সত্যিই, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নতি নির্ভর করে শিক্ষকের হাতে গড়া শিক্ষার্থীদের উপর। একজন সৎ, দক্ষ আদর্শ শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীর ভেতর নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে।


আজকের এই দিনে যখন আমরা বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করি, তখন আসলে আমরা শুধু তাদের শ্রদ্ধা জানাই না, বরং স্মরণ করি শিক্ষকের অবদানকে। শিক্ষকরা প্রায়শই নীরবে, বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা না করেই পরিশ্রম করে যান। অথচ তাদের পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে একেকটি প্রজন্ম, গড়ে ওঠে জাতির ভবিষ্যৎ।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের দেশে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, স্বল্প বেতন, প্রশিক্ষণের অভাবএসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের কাছে নিরলসভাবে জ্ঞান পৌঁছে দিচ্ছেন। এই ত্যাগ স্বীকারের কারণে আজও সমাজে শিক্ষা বিস্তৃত হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্ম আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে।


বর্তমানে প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন এনেছে। ডিজিটাল যুগে শিক্ষকরা শুধু জ্ঞানের বাহক নন, বরং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করছেন। অনলাইন ক্লাস, মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার, ভার্চুয়াল লার্নিংসবই শিক্ষকের প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি শিক্ষকদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন, যাতে তাঁরা যুগোপযোগীভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে পারেন।


বিশ্ব শিক্ষক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষকদের অধিকার সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ একজন শিক্ষক যদি যথাযথ সম্মান, সুযোগ-সুবিধা নিরাপত্তা না পান, তবে তিনি তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা দিয়ে কাজ করতে পারবেন না। শিক্ষকেরা কেবল পেশাজীবী নন, তাঁরা জাতি গঠনের কারিগর। তাই তাদের জীবনমান উন্নয়ন পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।


একজন ভালো শিক্ষক আজীবন শিক্ষার্থীর মনে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের জীবনে এমন একজন শিক্ষকের নাম বলতে পারব, যিনি আমাদের জীবন গড়ার পেছনে অনন্য অবদান রেখেছেন। তাঁদের ছাড়া আমরা হয়তো আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না।


শিক্ষকের অবদানকে শ্রদ্ধা জানানো শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি হওয়া উচিত আমাদের প্রতিদিনের আচরণে। শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তাদের পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করা, এবং তাদের জন্য একটি উন্নত পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব।


বিশ্ব শিক্ষক দিবস হোক শিক্ষকদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করিশিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দেব, তাদের কাজকে মূল্যায়ন করব এবং শিক্ষা বিস্তারে তাঁদের পাশে থাকব। কারণ শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়, আর শিক্ষা ছাড়া শিক্ষকের অস্তিত্ব নেই। তাই শিক্ষকই জাতির প্রকৃত নির্মাতা, এবং তাঁদের অবদান মানবসভ্যতার ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর