অনলাইন রিপোর্টার
জাতীয় সংসদ ভবনের গেটে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে, যখন “জুলাই যোদ্ধারা” নামে পরিচিত একদল আন্দোলনকারী সংসদের মূল ফটক টপকে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। আন্দোলনকারীদের দাবি—“জুলাই সনদ”-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন, নতুন করে কিছু ধারা সংযোজন ও পুরোনো কিছু শর্ত সংশোধন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রায় কয়েকশ’ আন্দোলনকারী সংসদ ভবনের দক্ষিণ গেটে জড়ো হন। তারা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন— “জুলাই সনদ চাই”, “দাবি মানতে হবে”, “দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দাও”। কিছু সময় পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তা বলয় উপেক্ষা করে গেটের উপরে উঠে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের থামানোর চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় কয়েকজন আহত হন এবং অন্তত ১৫ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে বিকেল ৩টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। আন্দোলনকারীদের একাংশ সংসদের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান অব্যাহত রাখে। তারা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। একই সময়ে সংসদের ভেতরে “জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান” চলছিল। জানা যায়, এই সনদে নতুন কিছু প্রস্তাব যুক্ত করা হলেও আন্দোলনকারীরা মনে করেন, তাদের মূল দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সংসদ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, “সংসদ একটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকা। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোই গণতান্ত্রিক পথ।” অন্যদিকে, জুলাই যোদ্ধাদের একজন সংগঠক রবিন হোসেন বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সংসদে আমাদের দাবি জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের উপর অন্যায়ভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা আন্দোলন থামাব না।” দিনের শেষে এলাকা শান্ত হলেও সংসদ প্রাঙ্গণে উত্তেজনার ছাপ রয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “জুলাই সনদ” এখন কেবল একটি নীতি নয়— এটি পরিণত হচ্ছে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক দাবি ও প্রতিবাদের প্রতীকে।
আকাশজমিন / আরআর