স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৩১টি ইউনিট। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম গণমাধ্যমকে বলেন, “বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের খবর আমরা দুপুর আড়াইটার দিকে পাই। দ্রুত ঘটনাস্থলে একের পর এক ইউনিট পাঠানো হয়। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ৩১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, আরও ৫টি ইউনিট আসছে পথে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আগুনে কেউ হতাহত হয়েছেন—এমন কোনো খবর এখনো আমাদের কাছে আসেনি।”
অগ্নি নিয়ন্ত্রণে যৌথ তৎপরতা
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শুধু ফায়ার সার্ভিস নয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও নৌ বাহিনীর ফায়ার ইউনিটও। একসঙ্গে তিন বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
আইএসপিআর-এর পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন, ফায়ার সার্ভিস এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট। পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।”
এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের বিস্তার যেন কার্গো ভিলেজের অন্যান্য অংশে না পৌঁছায়, সে জন্য বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। দাহ্য পদার্থ বা দাহ্য গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে তা শনাক্ত করে সরিয়ে ফেলার কাজও চলছে।
ঘটনার সময় আতঙ্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের কার্গো এলাকার আশপাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও কালো ধোঁয়া দৃশ্যমান হয়। এতে যাত্রী, কর্মী ও আশপাশের এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
বিমানবন্দর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাধারণ প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রধানের তত্ত্বাবধানে একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সময় কার্গো ভিলেজে মূলত আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্যসামগ্রী মজুদ ছিল। এ কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রথমেই ওই অংশগুলোতে পানি ছিটিয়ে আগুনের দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেন।
উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িক স্থগিত
আগুনের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিকেল থেকে বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, “আগুন মূলত কার্গো ভিলেজ এলাকায় লেগেছে। যাত্রী টার্মিনালে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কিছুটা কমে গেছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে উড়োজাহাজ ওঠানামা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিমান কর্তৃপক্ষ বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আহ্বান
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট অপারেশন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চলছে।”
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে সময় লাগবে। পুরো এলাকা ঠান্ডা হওয়ার পর তদন্ত শুরু করা হবে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও নিরাপত্তা ঘাটতি শনাক্তে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্ত
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো ভিলেজের বিভিন্ন গুদামে রাখা আমদানি পণ্য, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও কাপড়পত্র আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সঠিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, “আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।” শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনের তীব্রতা কমাতে সক্ষম হয়। তবে কিছু জায়গায় ধোঁয়া অব্যাহত থাকায় সতর্ক অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা।
আকাশজমিন / আরআর