নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন প্রতীক তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘শাপলা কলি’। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত গেজেটে এই প্রতীকটি ১০২ নম্বরে সংযোজন করা হয়েছে।
গেজেটে স্বাক্ষর করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। নতুন এই প্রতীক যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত প্রতীকের সংখ্যা আরও বেড়েছে।
এর আগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “বিধিমালায় ‘শাপলা’ প্রতীক না থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সেটি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। কমিশন নিজ বিবেচনায় নতুন প্রতীক নির্ধারণ করে তা গেজেটে প্রকাশ করবে।”
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ‘শাপলা কলি’ নামের নতুন প্রতীকটি যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক তালিকায় নতুন কোনো প্রতীক যুক্ত হলে তা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়, যাতে নিবন্ধিত দলগুলো চাইলে সেটি তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে আবেদন করতে পারে।
ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রতীক তালিকা সময় সময় হালনাগাদ করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধ বা নতুন নিবন্ধনপ্রাপ্ত দলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইসি প্রতীক যুক্ত বা সংশোধন করে থাকে।”
প্রতীক তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত ফুল, ফল, প্রাণী, কৃষিজ পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী ও জাতীয় ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের নাম ব্যবহার করে থাকে।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ৪৪টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন দলের নিজস্ব প্রতীক যেমন ধান শীষ, নৌকা, লাঙল, পাঞ্জা, হাতপাখা, তারার মতো প্রতীক বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নতুন যুক্ত হওয়া ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি কোনো দল গ্রহণ করলে তা আগামী নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে।
নতুন গেজেট অনুযায়ী, ‘শাপলা কলি’ প্রতীকটি ফুল শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এটি জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। ইসির কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন প্রতীক সংযোজনের ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বিকল্পের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
আকাশজমিন / আরআর