নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পাচ্ছে তিনটি নতুন রাজনৈতিক দল। গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলগুলোর বিষয়ে কোনো দাবি বা আপত্তি না থাকলে, এই দলগুলো ইসির চূড়ান্ত নিবন্ধন পাবে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে নিবন্ধনের জন্য কয়েকটি দলের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনটি নতুন রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ বা আপত্তি না আসে, তবে এই তিন দল আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসির নিবন্ধনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলের তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে— জাতীয় নাগরিক পার্টি, আমজনগণ পার্টি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)। এই তিনটি দলই কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় দলীয় কাঠামো, গঠনতন্ত্র, সদস্য সংখ্যা এবং জেলা পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রমাণপত্র জমা দিয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নিবন্ধনের জন্য প্রায় ৯০টিরও বেশি দল আবেদন করেছিল। যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে মাত্র তিনটি দলকে নিবন্ধনের উপযুক্ত মনে করেছে কমিশন। এসব দলের জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সংগঠন কাঠামো ও সদস্য তালিকা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো দলকে নিবন্ধন পেতে হলে দেশের অন্তত ২১টি জেলার ১০০টি উপজেলা বা পৌরসভায় কমিটি থাকতে হবে এবং সদস্য সংখ্যা হতে হবে ন্যূনতম ২০০ জন। তাছাড়া দলীয় গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার শর্তও রয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ করেছে বলেই কমিশন তাদের নিবন্ধনের অনুমোদনের পথে এগোচ্ছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, দলগুলো নিবন্ধন পাওয়ার পর তারা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ, নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের অধিকার এবং আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে। নিবন্ধন পাওয়ার পর দলগুলোর দায়িত্ব হবে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কমিটির তালিকা, এবং বার্ষিক কর্মসূচি কমিশনে জমা দেওয়া।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৪টি। নতুন তিনটি দল যুক্ত হলে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৭-এ। ইসি সূত্র বলছে, নতুন দল যুক্ত হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক পরিসরে আরও বৈচিত্র্য ও অংশগ্রহণ বাড়বে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনে যত বেশি দল অংশগ্রহণ করুক। তাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আমরা সব দলকেই সমান সুযোগ দিয়েছি। যোগ্যতা পূরণকারীরাই নিবন্ধন পাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, নিবন্ধনের বিষয়ে আপত্তি জানাতে যে সময় দেওয়া হবে, তা শেষ হলে কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। সেই তালিকাতেই নতুন তিন দলের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর