অনলাইন রিপোর্টার
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তি দাবিতে শিক্ষকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ‘নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ’ নামে সংগঠনের ব্যানারে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। তবে কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশি বাধার কারণে শিক্ষকরা সড়কে বসে পড়ে যান, যার ফলে পল্টন থেকে প্রেসক্লাবমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষকরা তাদের দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দেন, যেমন “এক দফ এক দাবি, এমপিওভুক্ত করতে হবে”, “এমপিওভুক্ত না করলে ঘরে ফিরে যাব না।” আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, অনেকদিন আগে স্বীকৃতি পেয়েও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। এমপিওভুক্তির অভাবে শিক্ষক ও কর্মচারীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক থেকে সরবেন না বলে জানান।
অবস্থান তীব্র হওয়ায় শিক্ষকদের এক ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল আলোচনা করার জন্য সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কিছু ফ্যাসিবাদের দোসর কাজ করছে। তাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।”
শিক্ষক আন্দোলন ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তাদের এই আন্দোলন সরকারের কাছে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার দাবি জানানো হচ্ছে।
সরকারি এমপিওভুক্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতনভাতা, স্বাস্থ্যবীমা, অবসর সুবিধাসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি আন্দোলনকারীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা দুর্ভোগে আছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, প্রশাসনের কিছু শাখায় এমপিওভুক্তির বিষয়ে স্বচ্ছতা নেই এবং দূর্নীতি ও অনিয়মের কারণে শিক্ষকরা সঠিক সুযোগ পাচ্ছেন না। এ কারণে শিক্ষকরা মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকারি নীতির প্রতি জোরালো মনোযোগ আকর্ষণ করছেন।
এছাড়া আন্দোলনকারীরা বলেন, “আমাদের দাবিগুলো সরকার যদি দ্রুত পূরণ না করে, তাহলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়বে।”
শিক্ষকদের এই আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের জন্য সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিন এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করুন।
আকাশজমিন / আরআর