ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

গুমের সাজা এখন মৃত্যুদণ্ড, চূড়ান্ত অনুমোদন পেল অধ্যাদেশ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, এই অধ্যাদেশে গুমকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গোপন আটককেন্দ্র স্থাপন—যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত—এবং এর ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গুম সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা পাবে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হয়।

আইনে ভুক্তভোগী, তথ্য প্রচারকারী ও সাক্ষীর অধিকার, সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ এবং আইনগত সহায়তার নিশ্চয়তা সংক্রান্ত বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন ও জাতীয় তথ্যভান্ডার প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও জানান, গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ গত বছরের ২৯ আগস্ট উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে পক্ষভুক্ত হয়। সেই আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসরণ করেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক আইন। এর ফলে বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকার এসে গুমের রাজত্ব চালাতে পারবে না। দেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ তৈরি হবে না।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। বহু বছর ধরে নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশে গুমের ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিল। তাই এই আইনের অনুমোদন মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর