ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পাকিস্তান থেকে পাখির খাদ্যে ২৫ টন নিষিদ্ধ পপি বীজ


পাকিস্তান থেকে পাখির খাদ্যের আড়ালে ২৫ টন নিষিদ্ধ পপি বীজ

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:১৪ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ‘পাখির খাদ্য’ নামের একটি চালানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পপি বীজ জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। দুইটি কনটেইনারে আসা ৩২ টন পণ্যের মধ্যে ২৫ টনই ছিল পপি বীজ, যা দেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই চালানটি আমদানি করেছে চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জের প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদিব ট্রেডিং। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম কাস্টমস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জব্দকৃত বীজের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

কাস্টমসের উপকমিশনার এইচ এম কবির বলেন, “অঙ্কুরোদগম উপযোগী পপি বীজকে মাদক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই এই চালানের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এই প্রতিষ্ঠানের আগের আমদানি কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হবে, কারণ এটি পূর্ব পরিকল্পিত চোরাচালানের অংশ হতে পারে।

কাস্টমসের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আমদানি নথিতে ৩২ টন ‘পাখির খাদ্য’ লেখা থাকলেও, চালানটি পরীক্ষায় দেখা যায় মাত্র ৭ টন পাখির খাবার এবং ২৫ টন পপি বীজ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, কনটেইনারের মুখে পাখির খাবারের বস্তা সাজানো হয় যাতে বাইরের দিক থেকে পরীক্ষা করলে এটি পাখির খাদ্য বলে মনে হয়, কিন্তু ভেতরে রাখা হয় নিষিদ্ধ পপি বীজ।

দুই কনটেইনারের চালানটি গত ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। পরবর্তীতে এটি খালাসের জন্য নেওয়া হয় বেসরকারি ডিপো ছাবের আহম্মেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডে। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটির খালাস স্থগিত করেন এবং পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

২২ অক্টোবর কনটেইনার দুটি খুলে পরীক্ষা করা হলে সন্দেহজনক বীজ পাওয়া যায়। পরে তিনটি পৃথক পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়ে বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত করা হয় যে, পণ্যটি আসলে পপি বীজ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, নিষিদ্ধ এই বীজ দেশে প্রবেশের চেষ্টা একটি সুসংগঠিত চোরাচালান চক্রের কাজ। তারা বিদেশ থেকে ‘পাখির খাদ্য’ বা ‘শস্যবীজ’ নামে মাদক জাতীয় পদার্থ আমদানি করে বাজারজাত করার চেষ্টা করে।

এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস বলছে, ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা ঠেকাতে বন্দর এলাকায় কনটেইনার স্ক্যানিং ও যাচাই আরও জোরদার করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর