ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

বেবিচকের সব ক্ষমতা যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ের হাতে


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৮ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:১৩ পিএম

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আইন সংশোধন নিয়ে আলোচনায় এসেছে। সরকার ইতোমধ্যে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ খসড়া জনমত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করেছে। তবে বেবিচক সতর্ক করেছে, প্রস্তাবিত ধারা কার্যকর হলে দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মান রক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

২০১৭ সালের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বেবিচক চেয়ারম্যানকে বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ, আদেশ ও বিজ্ঞপ্তি জারি ও সংশোধনের স্বাধীন ক্ষমতা রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ম পরিবর্তন সম্ভব। কিন্তু নতুন অধ্যাদেশে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হলে সময়মতো প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা কঠিন হবে। এতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে পারে।

আইকাও সাধারণত নতুন নিয়ম বা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানোর সময় নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন অধ্যাদেশে অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে এই সময়সীমা পূরণ সম্ভব হবে না, যা দেশের বিমান খাতকে “গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

বেবিচক সুপারিশ করেছে, ২০১৭ সালের আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বজায় রাখা উচিত। এ ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সি সংক্রান্ত ধারা ইতোমধ্যে ২০১৩ সালের ট্রাভেল এজেন্সি আইনে নিয়ন্ত্রিত। নতুন অধ্যাদেশে একই বিষয় অন্তর্ভুক্ত করলে আইনগত জটিলতা ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে।

বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হবে। ফলে বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধান তৈরি এবং আইকাওর নিরীক্ষায় দেশের কার্যকারিতা দুর্বল হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত বিষয় দ্রুত বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের আইন সংসদে পাস হয়েছে। তাই সংশোধনের তড়িঘড়ি প্রয়োজন নেই। চেয়ারম্যানের ক্ষমতা কমানো হলে এটি আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং আইকাও থেকে অডিটের ঝুঁকি বাড়বে।

বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর বাংলাদেশে কার্যক্রম তদারকির বিষয়েও নতুন অধ্যাদেশে স্পষ্টতা নেই। বর্তমানে বিদেশি সংস্থা দেশীয় বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সংস্থা চাইলে নিজস্ব অফিস স্থাপন বা একাধিক বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে। এতে তদারকি সীমিত হয়ে যেতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বেবিচক জানিয়েছে, বর্তমান আইনেই বিমান নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা এবং প্রযুক্তিগত নিয়মাবলি আন্তর্জাতিক মানে বজায় রাখা সম্ভব। তাই ২০১৭ সালের আইন অপরিবর্তিত রেখে চেয়ারম্যানের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বহাল রাখা দেশের বিমান নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং প্রশাসনিক দক্ষতা রক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হবে।


আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর