ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নের একটি বাসা থেকে গত ২৮ অক্টোবর গোখরা সাপ উদ্ধার করেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা
রাজধানী ঢাকায় মানুষের বসতবাড়ি, গ্যারেজ, এমনকি বহুতল ভবনেও এখন মিলছে বিষধর সাপ—পদ্মগোখরা, রাসেলস ভাইপার, খৈয়াগোখরা ও রাজকেউট। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ভয় ও উদ্বেগ।
বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান, এ বছর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫২টি সাপ, যার অধিকাংশই বিষধর। শুধু ঢাকা থেকেই উদ্ধার হয়েছে ২০০টির বেশি সাপ। গত বছর এই সংখ্যা ছিল একশর মতো।
গত ১ নভেম্বর রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি বাড়ির ফ্লোর ভেঙে উদ্ধার করা হয় ২টি পদ্মগোখরা, ৭টি বাচ্চা ও ১৮টি ডিম। আতঙ্কে ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে যান। এর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়ন ও কালিন্দী এলাকার বিভিন্ন ঘর-বাড়ি থেকেও একাধিক গোখরা উদ্ধার করা হয়।
🔹 উদ্ধারের সংখ্যা বাড়ছে
বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সাপ উদ্ধারে সহায়তার জন্য ১১৩ বার যোগাযোগ করা হয়েছে, যেখানে গত বছর ছিল মাত্র ৮৮টি ঘটনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ বাড়ছে না, বরং মানুষ এখন সচেতন হওয়ায় উদ্ধারের খবর বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মো. আবু সাইদ বলেন, “ঢাকা ও আশপাশে সাপ আছে। তবে উদ্ধার সংখ্যার নির্ভরযোগ্য তথ্য নিয়ে গবেষণা জরুরি।”
🔹 কেন সাপ ঢুকে পড়ছে শহরে
আদনান আজাদ বলেন, “মানুষ জলাশয় ভরাট করে ফেলছে, ফলে সাপের বাসস্থান নষ্ট হচ্ছে। বৃষ্টিতে গর্তে পানি ঢোকে, তখন তারা শুকনা জায়গা খোঁজে। এছাড়া ইঁদুরের উপস্থিতির কারণে সাপ খাবারের সন্ধানে ভবনে ঢুকে পড়ে।” রাজধানীর বনশ্রী, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, বছিলা, উত্তরা, খিলগাঁও, কচুক্ষেত, মিরপুর, নিকেতন, উত্তরখান ও দক্ষিণখানে বেশি সাপ ধরা পড়ছে।
🔹 সাপের কামড়ে প্রতিবছর মৃত্যুর হার
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি জরিপ অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশে প্রায় চার লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আহত হয়, এবং ৭ হাজার ৫০০ জনের মতো মারা যায়। যদিও রাজধানীতে এখন পর্যন্ত কেউ আক্রান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরে যেহেতু সাপের দেখা মিলছে, তাই বড় হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা জরুরি।
🔹 বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবু শাহিন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, বিষধর সাপের কামড়ে তীব্র ব্যথা, ফোলা, রক্তপাত, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি বলেন, “রাসেলস ভাইপারের বিষে কিডনির জটিলতা, রক্তপাত ও শরীর ফোলা দেখা দেয়।”
🔹 কীভাবে বাঁচবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখুন
খাবারের বর্জ্য ফেলে রাখবেন না
রাতে টর্চ বা লাইট ব্যবহার করে চলুন
সাপে কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান
🔹 পরিবেশে সাপের ভূমিকা
আবু সাইদ বলেন, “সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি ইঁদুর ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষা করে। সাপের বিষ থেকে ক্যানসার, স্ট্রোক, ব্যথানাশক ওষুধ এবং অ্যান্টিভেনম তৈরি হয়। তাই অকারণে সাপ হত্যা না করে সচেতন হতে হবে।”
আকাশজমিন / আরআর