অনলাইন রিপোর্টার
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বাসে আগুন দেওয়া বা ককটেল নিক্ষেপের মতো নাশকতামূলক কার্যক্রমে জড়িত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের বা সাধারণ মানুষের ওপর আগুন বা ককটেল নিক্ষেপ করা হলে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো যাবে।
রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বেতার বার্তায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। মাঠে দায়িত্ব পালনরত ডিএমপির অপরাধ বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও কেউ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের পর ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি বলেছি। বাসে আগুন দিলে, পুলিশ বা জনগণের গায়ে আগুন ধরানোর উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করলে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছি।”
এ ধরনের নির্দেশনা আইনে সমর্থন করে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “একশতে একশই কাভার করে। চাইলে আপনিও করতে পারেন এটা।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৪ ধারায় ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এই ধারাগুলোতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজের জীবন, সম্পদ বা অন্যের জানমাল রক্ষার্থে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। প্রয়োজনে আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা অস্ত্র ব্যবহার করাও আইনগতভাবে সমর্থিত।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আইনে বলা আছে, যে কোনো লোক তার বা অন্যের জানমালের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনে গুলি করতে পারে। সেই আইনের ভিত্তিতেই আমি আমার সহকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। যে কোনো বাসে আগুন দিবে, ককটেল মারবে—তুমি গুলি করে দিবা।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য। নাশকতা ও সহিংসতা দমনে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দণ্ডবিধির ৯৬ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে, ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে সংঘটিত কোনো কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এই আইনের ব্যাখ্যায় ৯৭ থেকে ১০৪ ধারায় বলা আছে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে আক্রমণকারীকে প্রাণঘাতীভাবে মোকাবিলা করা যেতে পারে।
সরকারি দায়িত্ব পালনরত ব্যক্তিদের ওপর হামলা, আগুন দেওয়া বা বিস্ফোরকজাতীয় বস্তু নিক্ষেপ দেশ ও সমাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত। এ কারণে মাঠ পর্যায়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনারের এই নির্দেশনা চলমান নাশকতা, বাসে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, শহরে যানবাহন পোড়ানো ও ককটেল হামলার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।
অন্যদিকে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আগে থেকেই বাড়তি নজরদারি, টহল এবং চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করেছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা দমন এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে ডিএমপি সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আকাশজমিন / আরআর