অনলাইন রিপোর্টার
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী পুলিশের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বা হামলাকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকারকর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি দেশের সংবিধান, আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
গত মঙ্গলবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ওয়্যারলেসে পুলিশ সদস্যদের একাধিক দফায় ব্রাশফায়ারের নির্দেশ দেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘দেখামাত্র ব্রাশফায়ার নিরস্ত্র জনসাধারণের জন্য নয়, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীর জন্য। যাতে তারা প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটাতে সাহস না পায়।’
একইভাবে ১৬ নভেম্বর বিকেলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ককটেল হামলা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে প্রয়োজন হলে হামলাকারীদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার কথা বলেছি। যারা মানুষ বা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করবেন বা যানবাহনে আগুন দেবেন, তাদের ওপর আইনসম্মতভাবে গুলি করা যাবে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনা উদ্বেগজনক। তবে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দায়িত্বহীন ও মানবাধিকারবিরোধী। সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনি নিরাপত্তা, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং ন্যায্যবিচারের অধিকার সুনিশ্চিত। আইনের বাইরে গুলি করার এই নির্দেশনা ওই অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে।
মানবাধিকার কর্মী রেজাউর রহমান লেনিন বলেন, ওয়্যারলেসে নির্দেশ দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে ব্রাশফায়ার করা বা গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া মানবাধিকার হরণের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। দেশের ইতোমধ্যে চার হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এমন ঘোষণা শুধুমাত্র সহিংসতা বৃদ্ধি করবে।
আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, জননিরাপত্তার নামে বিচারবহির্ভূত বলপ্রয়োগ কখনো বৈধ নয়। এমন নির্দেশ জনগণকে আতঙ্কিত করে, জবাবদিহি এড়িয়ে যায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। আইন ও আদালতের মাধ্যমে অপরাধীর বিচারই একমাত্র উপায়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মামুন মাহবুব বলেন, পুলিশের এমন নির্দেশ সংবিধান বহির্ভূত। বিচার করার সুযোগ থাকা অবস্থায় আইন লঙ্ঘন করা হলে এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার হরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বিবৃতিতে বলেছে, এই ধরনের নির্দেশ সরাসরি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করে। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবন ও আইনি আশ্রয় সুনিশ্চিত। সন্দেহভাজন অপরাধীকে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হত্যা বা গুলি চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। আসক জোর দিয়েছে, সরকার অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলদের মানবাধিকার ও সংবিধান সম্মত আচরণের বার্তা দিতে হবে।
আকাশজমিন / আরআর