ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও অবনতি হচ্ছে দেশে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মাত্র একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৮৮ রোগী। বুধবার (১৯ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৭৮৮ রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৮৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ১৩০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৬৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৮৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে একই সময়ে সারা দেশে ৯৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ হাজার ৫৭০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৮৭ হাজার ৭১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৪৯ জনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতা শীতের শুরুতেও কমছে না, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা, দ্রুত শনাক্তকরণ, হাইড্রেশন বজায় রাখা এবং হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারলে মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
দেশের গত দুই বছরের তুলনামূলক পরিস্থিতিও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে অর্থাৎ গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, আর মৃত্যুবরণ করেছিলেন ৫৭৫ জন।
এর আগের বছর ২০২৩ সালে পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ। ওই বছর দেশে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মৃত্যুবরণ করেন রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জন। দেশের ইতিহাসে এক বছরে এত উচ্চ সংক্রমণ ও মৃত্যুর নজির আগে ছিল না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ন, খাল-জলাধার ভরাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়হীনতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বছর বছর খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল দমন না করার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, বাড়ির ভেতর ও আশপাশে পানি জমে থাকা জায়গায় এডিস মশার লার্ভা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন সব পানি জমে থাকা পাত্র পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে নিকটস্থ হাসপাতালে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মশা দমন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে এবং নগর এলাকায় নিয়মিত ফগিং, লার্ভিসাইড ছিটানো এবং সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। এ বছরের মৃত্যু ও আক্রান্তের সর্বশেষ রিপোর্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি, বরং কঠোর সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন আরও বেড়েছে।.
ঢাকা টুডে / আরআর