‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ। শুক্রবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের গুরুত্ব, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মতবিনিময় করেন। তিনি জানান, স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত উন্নতির মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর কাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানবিক অভিযানে তাদের অবদানও তুলে ধরা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান অনন্য।
এর আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন। জাতির প্রতি সশস্ত্র বাহিনীর ত্যাগ ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
প্রতিবছর ২১ নভেম্বর বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করা হয়, যা ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সম্মিলিতভাবে তিন বাহিনীর যুদ্ধ কার্যক্রম শুরু করার ঐতিহাসিক দিনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ দিবসে সাধারণত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও তিন বাহিনীর বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তাদের সক্ষমতা তুলে ধরার অন্যতম দিন হিসেবে এই দিবস গুরুত্ব পায়।
সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং সমন্বিত অপারেশনাল উন্নতির মাধ্যমে বাহিনীগুলো আরও সক্ষম হয়ে উঠছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিন বাহিনীর আন্তরিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। বৈঠক শেষে তিন বাহিনীর প্রধানগণ প্রধান উপদেষ্টাকে শুভেচ্ছা স্মারক উপস্থাপন করেন।
আকাশজমিন / আরআর