ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

পুলিশ ভেরিফিকেশন বন্ধ

এনআইডির আঙুলের ছাপে পাসপোর্ট যাচাই


এনআইডির আঙুলের ছাপে পাসপোর্ট যাচাই

  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:১৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

সরকার দেশে ই-পাসপোর্ট প্রদান প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এখন পাসপোর্টের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বায়োমেট্রিক তথ্য। পাসপোর্ট করা বা নবায়নের সময় পুলিশি যাচাই কার্যত বন্ধ হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি ঠেকানোর জন্য সরকার প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে।

সম্প্রতি ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্টে আবেদনকারীর এনআইডির ছবি স্ক্রিনে দেখানোর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। পাশাপাশি এনআইডিতে থাকা আঙুলের ছাপের সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত যাচাই প্রক্রিয়া যুক্ত করার প্রস্তাব নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছে। এই পদ্ধতি চালু হলে পাসপোর্ট প্রত্যাশীর আঙুলের ছাপ এনআইডির সঙ্গে মিলিয়ে ক্রস চেক করা যাবে এবং অন্যান্য তথ্যও শনাক্ত করা যাবে।

বর্তমানে ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণের সময় এনআইডির ডেমোগ্রাফিক তথ্য যেমন নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম ইত্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করা হয়। এতে জাল পরিচয় দেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল—‘ডেমোগ্রাফিক ম্যাচিং নয়, বায়োমেট্রিক ম্যাচিং বাধ্যতামূলক করা উচিত’। অর্থাৎ আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি মিলিয়ে পরিচয় যাচাই নিশ্চিত করার পক্ষে তারা।

পুলিশি যাচাই বন্ধ হওয়ায় পরিচয় নিশ্চিতকরণে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আগে পুলিশ স্থানীয়ভাবে আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানা, পরিবার ও পেশা সম্পর্কে খোঁজ নিত। এখন এই ব্যবস্থা নেই, তাই আবেদনকারী সত্যিই এনআইডি ধারী কি না— তা নিশ্চিত করতে হবে প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতিতে। এনআইডির আঙুলের ছাপ, ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য এই যাচাইয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস।

ই-পাসপোর্ট বিভাগ সম্প্রতি এনরোলিং অফিসারদের মনিটরে আবেদনকারীর এনআইডিতে সংরক্ষিত ছবি দেখানোর ফিচার সক্রিয় করেছে। এটি প্রথম স্তরের ভিজ্যুয়াল যাচাই হিসেবে কাজ করছে, যা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য সহায়ক। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবি দেখে মিল যাচাই শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। বয়স, আলোর পার্থক্য, ক্যামেরার মান, ওজন পরিবর্তনসহ নানা কারণে ছবিতে পার্থক্য সৃষ্টি হতে পারে। তাই নিরাপদ পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বয়ংক্রিয় বায়োমেট্রিক মিল অপরিহার্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক উপপরিচালক বলেন, মেশিনভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাই ছাড়া পাসপোর্ট ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা সম্ভব নয়। এনআইডির ডাটাবেইজ পুরোপুরি ব্যবহার না করলে জাল পরিচয়ে পাসপোর্ট নেওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা একই মত ব্যক্ত করেছেন।

নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতি অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট কাউন্টারে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। এই ছাপ সরাসরি এনআইডিতে থাকা আঙুলের ছাপের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হবে। মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও (ফেস ভেরিফিকেশন) এনআইডির ছবির সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করবে। কোনো অমিল পাওয়া গেলে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে কেসটি আলাদা করে ম্যানুয়াল যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনকে কেন্দ্র করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ দীর্ঘদিন ধরে একটি বাণিজ্য করে আসছিল। উৎকোচ না পেলে তারা ক্লিয়ারেন্স পাঠাত না। যেহেতু এনআইডি তৈরির সময়ই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস রিকগনিশনসহ পূর্ণাঙ্গ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়, তাই এনআইডির এই তথ্যগুলো সরাসরি পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হলে তা অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে।

প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, নতুন পদ্ধতিতে দুটি বড় সুবিধা হবে। প্রথমত, জাল পরিচয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ রোধ হবে। দ্বিতীয়ত, এক ব্যক্তি বিভিন্ন নামে একাধিক পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হবে। এতে বাংলাদেশের পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও শক্ত হবে।

বায়োমেট্রিক তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। নাগরিক অধিকারের সংগঠনগুলো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, ডাটাবেইস শেয়ারিং হবে সম্পূর্ণ এনক্রিপশন প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং সরকারি নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে। কোনো তথ্য সংরক্ষণ বা ট্র্যাকিং হবে না, শুধুমাত্র মিল দেখে ফলাফল জানানো হবে।

শিশু ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। শিশুদের জন্য ডিজিটাল জন্মসনদ নম্বরই প্রধান পরিচয় শনাক্তকরণ কোড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এটি জন্মসনদভিত্তিক যাচাই নিশ্চিত করবে, যাতে জাল জন্মসনদ বা ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়।

চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার পাসপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা শিথিল করেছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইকৃত এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ই-পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে। নিরাপদ, স্বচ্ছ ও দ্রুত পাসপোর্ট প্রক্রিয়া দেশের সুনাম বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর