ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা


এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা

  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:১৮ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে ১০৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগ অনুসারে, তিনি চাঁদাবাজি করে এই অর্থ উপার্জন করেছেন।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনায়েত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান খন্দকার এনায়েত উল্লাহ আশির দশকে পরিবহন সেক্টরে ব্যবসা শুরু করেন। একটি পুরাতন বাস কেনার মাধ্যমে তার ব্যবসার সূচনা হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ২০টি বাসের মালিক হয়ে ওঠেন। অল্প সময়েই তিনি পরিবহন মালিকদের সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।

তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বাড়িয়ে যান। প্রথমে বিএনপির রাজনীতি, পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদও লাভ করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ১৬ বছর তিনি ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি পরিবহন সেক্টরে একক আধিপত্য স্থাপন করেন।

জসীম উদ্দিন খান বলেন, চাঁদাবাজি কার্যক্রমগুলো ছিল অত্যন্ত সংগঠিত ও ভয়ভীতি-ভিত্তিক। এনায়েত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা সিন্ডিকেট গড়ে বিভিন্ন অজুহাতে বাস মালিকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য চাঁদা আদায় করতেন। দৈনিক ও মাসিক চাঁদার পাশাপাশি নতুন বাস কোনো রুটে নামাতে হলে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা দিতে হতো। এছাড়া নতুন বাসের একটি ভাগও তাকে দিতে বাধ্য করা হতো।

ঢাকার প্রতিটি বাস টার্মিনাল তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। সারা দেশের বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি থেকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হতো। সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে তিনি পরিবহন সেক্টরে ত্রাসের রাজত্ব চালাতেন।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের দুটি প্লট সিনিয়র স্পেশাল মহানগর জজ আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। তাদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এনায়েত উল্লাহ ও পরিবারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা জমা ছিল। এর মধ্যে উত্তোলিত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭ কোটি টাকা।

ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘স্ট্রাকচারিং’ বা ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ কৌশল ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অবৈধ অর্থ ঘুরিয়ে মোট ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭৪ টাকা মানিলন্ডারিং করা হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

 

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর