ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূকম্পনে রাজধানীর নানা স্থানে ভবন কেঁপে ওঠে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এর মাত্রা, উৎপত্তিস্থল ও গভীরতা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর বা আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাসিন্দারা জানান, কম্পনটি হঠাৎ শুরু হয়ে দ্রুত শেষ হয়। তবে সময় খুব কম হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার খাতিরে ভবন থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন। বিশেষ করে উচ্চ ভবনে থাকা লোকজন বেশ স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভব করেছেন বলে জানান।
মিরপুর, ধানমন্ডি, বসুন্ধরা, উত্তরা, শাঁখারীবাজার, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বাড্ডা, কাপ্তানবাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কথা জানান। কেউ কেউ লেখেন, ‘হঠাৎ চেয়ার কেঁপে উঠল’, ‘ফ্যান নড়তে দেখে বুঝলাম ভূমিকম্প’—এ ধরনের অভিজ্ঞতা।
এদিকে, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুর অঞ্চলের কয়েকটি জায়গা থেকেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জেলায় থাকা স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, কম্পনটি খুব বেশি শক্তিশালী না হলেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অবস্থান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় মাঝেমধ্যেই এ ধরনের কম্পন অনুভূত হয়। সাধারণত এই ধরনের কম্পন বড় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি না করলেও ভবন ঝুঁকি, দুর্বল নির্মাণকাঠামো ও সড়ক–ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি, আহত বা উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজন হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প ইউনিট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য সংগ্রহের পর কম্পনের মাত্রা ও কেন্দ্র সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে। নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর