প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নির্বাচনে উপদেষ্টাদের অংশগ্রহণ কিংবা বাউলদের নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে যেটুকু তিনি জানেন, বাউলদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল সম্প্রতি দেশে বিভিন্ন স্থানে বাউল শিল্পী ও সংগীতচর্চাকারীদের ওপর হওয়া হামলা এবং এতে সরকারের অবস্থান কী। জবাবে শফিকুল আলম পরিষ্কারভাবে বলেন, কয়েকটি স্থানে যে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও বাউলদের ওপর হামলার ঘটনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে।
তিনি বলেন, “সেই অনুযায়ী মানিকগঞ্জের পুলিশ কাজ করছে। অন্যান্য জায়গায় যেখানেই হামলা হয়েছে, সেখানে তারা খুব সাঁড়াশি অভিজান করছে—খুব দ্রুত আপনারা ফলাফল জানতে পারবেন।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঐতিহ্যবাহী বাউল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম আরও বলেন, সরকার দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পচর্চার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। বাউলদের ওপর হামলার বিষয়টি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের সংস্কৃতি ও বহুত্ববাদী চর্চার ওপরও আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যে কারণে ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন যে, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক। সঙ্গীতচর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো সমাজে উদ্বেগ তৈরি করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুত রয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, খুব শিগগিরই হামলাকারীরা আইনের আওতায় আসবে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, কোনো শিল্পী বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ওপর হামলা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিপন্থী। সরকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, সহিংসতা বা সাংস্কৃতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সবসময় কঠোর থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর