ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

প্রতিদিন ৩–৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে প্রায় ১৩০ বার!


ভূমিকম্প

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:২৫ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট-বড় ভূমিকম্পের খবর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ভূমিকম্পই ভয়ঙ্কর নয়। ৩ থেকে ৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প প্রতিদিন পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে শত শতবার ঘটে এবং সাধারণ মানুষ সাধারণত তা টের পায় না।

ঢাকায় আজ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৩.৬। এটি নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়েছিল।

আজ ভোরের দিকে সিলেট ও কক্সবাজারের টেকনাফেও দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গত শুক্রবারের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ৬ দফায় ভূমিকম্প হয়েছে।

২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে দেশের স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ঢাকাসহ রাজধানী ও আশেপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। এই ভূমিকম্পে প্রচুর মানুষ আতঙ্কিত হয় এবং এর প্রভাব দীর্ঘক্ষণ অনুভূত হয়।

পৃথিবীর ভেতরের টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়াই ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। তবে ভূমিকম্প মানেই আতঙ্ক নয়। বেশির ভাগ ভূমিকম্প এত ছোট হয় যে মানুষ তা টেরই পায় না। ভূমিকম্প কত ঘন ঘন ঘটে এবং কোন মাত্রার ভূমিকম্পে ভয় পাওয়া উচিত নয়, তা বোঝার জন্য রিখটার স্কেল গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৩৫ সালে চার্লস রিখটার ভূমিকম্পের শক্তি মাপার স্কেল তৈরি করেন। দীর্ঘ গবেষণা ও রেকর্ড অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতিদিন অসংখ্য ভূমিকম্প ঘটে। এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি বড় ভূমিকম্প মানুষের নজরে আসে, বাকিগুলো নীরবে ঘটে।

রিখটার স্কেল অনুযায়ী:

  • ৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পকে ‘গ্রেট আর্থকোয়েক’ বলা হয়। বছরে গড়ে মাত্র ১টি ঘটে।

  • ৭ মাত্রার ভূমিকম্প বছরে প্রায় ১৮টি।

  • ৬ মাত্রার ভূমিকম্প বছরে প্রায় ১২০টি।

  • ৫ মাত্রার ভূমিকম্প বছরে প্রায় ৮০০টি।

এই ভূমিকম্পগুলো সাধারণত খবরের শিরোনামে আসে। এর নিচের মাত্রার ভূমিকম্প মানুষ খুব বেশি টের পায় না। তবে কিছু মানুষ অল্পমাত্রার ভূমিকম্পও টের পেতে পারেন।

৪ মাত্রার নিচের ভূমিকম্পও এখন খবরের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, কারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪ থেকে ৪.৯ মাত্রার হালকা ভূমিকম্প বছরে প্রায় ৬,২০০ বার ঘটে। আর ৩ থেকে ৩.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে বছরে প্রায় ৪৯,০০০ বার। অর্থাৎ দিনে শত শত বার। তবে এর অধিকাংশ ক্ষুদ্র এবং সাধারণ মানুষ তা বুঝতেই পারে না।

এছাড়া, আরও ছোট ভূমিকম্প যেমন ২ বা ১ মাত্রার ভূমিকম্প প্রতিদিন হাজার হাজারবার পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ঘটে। এসব ক্ষুদ্র ভূমিকম্প সাধারণত কোনও ধ্বংসাত্মক ক্ষতি করে না। বরং এটি পৃথিবীর অভ্যন্তরে চাপ কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ছোট মাত্রার ভূমিকম্পে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে বড় ভূমিকম্পের জন্য সচেতন থাকা জরুরি। ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে থাকা, বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভূমিকম্পের পর করণীয়:

  1. ঘর ছাড়া হলে স্থিতিশীল স্থানে যান।

  2. জানালা, দরজা ও বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করুন।

  3. আহত হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিন।

  4. ধ্বংসস্তূপ বা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সতর্ক থাকুন।

এই তথ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষকে সচেতন হওয়া দরকার। ছোট মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের প্রস্তুতি থাকা জরুরি।

ভূমিকম্পের ভয় থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি, স্কুল ও অফিস ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া ও সচেতনতা কার্যক্রম মানুষের প্রাণ ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

দেশের ভূমিকম্প সংক্রান্ত ইতিহাসে দেখা গেছে, ১৯৫০ সালের পূর্বে ও পরে বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্পের রেকর্ড রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার টেকটোনিক প্লেটের কারণে বাংলাদেশে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা নিয়মিত ঘটে।

ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা, প্রস্তুতি রাখা এবং প্রতিক্রিয়া জানার মাধ্যমে প্রাণ ও সম্পদ রক্ষা সম্ভব।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর