রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ শনিবার একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা অংশ নেন। এই বিশেষ সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সভায় বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে। এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে। অনুদান অবমুক্তর শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
এছাড়া সভায় পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া উত্থাপিত হয়। তবে অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী উপদেষ্টা পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আরব আমিরাতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বন্দী থাকা বাকি ২৪ জনকে অচিরেই মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দুই-তিন দিনের মধ্যে তারা দেশে ফিরবেন।
উপদেষ্টা পরিষদের এই বিশেষ সভায় সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রস্তাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈদেশিক অনুদান নিয়মের সহজীকরণ এবং প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত পদক্ষেপকে সভায় ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সরকার ও উপদেষ্টা পরিষদ সব সময় দেশের মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়। এ ধরনের সভার মাধ্যমে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রবাসী কল্যাণমূলক বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করা হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। প্রবাসীরা যাতে দেশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, সে বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদ উদ্বিগ্ন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা দেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বে গুরুত্বারোপ করেন। প্রবাসীদের মধ্যে তথ্য সরবরাহ, ভোটাধিকার ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়।
এছাড়া সভায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবিক সমস্যা এবং প্রবাসীদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় বিভিন্ন প্রস্তাব ও উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়।
উপদেষ্টা পরিষদের এই বিশেষ সভা প্রমাণ করে যে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রবাসী এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নিয়মিতভাবে মনোযোগ দিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা এবং প্রবাসী কল্যাণ নীতিমালার অনুমোদন এই সভার মূল ফলাফল হিসেবে ধরা হয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর