অনলাইন রিপোর্টার
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। ওইদিন তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আশ্রয় নেন। সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনুগত সংসদ-সদস্যরাও পালিয়ে যান। এরপর থেকে সংসদ-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটগুলো ফাঁকা হয়ে পড়ে। তবে সাবেক সংসদ-সদস্যদের মালামাল ও আসবাবপত্র এখনও ফ্ল্যাটগুলোতে পড়ে আছে।
সংসদ সচিবালয় এ বিষয়ে কয়েক দফা সাবেক সংসদ-সদস্যদের চিঠি পাঠিয়ে মালামাল ও আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের পরিবার থেকে কেউ যোগাযোগ করেননি। ফলে ফ্ল্যাটগুলোতে মালামাল এখনও পড়ে আছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতা সংসদ ভবন ও গণভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ন্যাম ভবনেও ক্ষতি করেছে। তখন এক বা দেড় মাস ছাড়া সেখানে কেউ ছিলেন না। সব ফ্ল্যাট খালি অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্মকর্তাদের সুবিধার্থে তিন নম্বর ভবনের কিছু ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
৫ আগস্টের আগের দিন পর্যন্ত ন্যাম ভবনের নিচে শিশুদের খেলা এবং এলাকার লোকজনের পদচারণা ছিল। রাজনৈতিক নেতারা আসতেন, সাধারণ মানুষও এলাকা পরিদর্শন করত। তবে অভ্যুত্থানের পর ভবনগুলোর পরিবেশ বদলে যায়। দীর্ঘ সময় নীরবতা নেমে আসে, রাত হলে পরিস্থিতি ভূতুড়ে রূপ নিত।
সম্প্রতি রাতে ন্যাম ভবনের কিছু ফ্ল্যাটে আলো জ্বলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদ কার্যক্রম না থাকলেও এই ফ্ল্যাটগুলোতে এখন কে বসবাস করছেন।
খোঁজে জানা যায়, নাখালপাড়ার তিনটি ন্যাম ভবনে ৪৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ৫ আগস্টের পর সব ফ্ল্যাটে তালা ঝুলেছে। শেরেবাংলা নগরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ছয়টি ভবনে মোট ২১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। কয়েক মাস আলো জ্বলেনি, তবে সম্প্রতি দুটি ভবনের কিছু ফ্ল্যাটে সন্ধ্যার পর আলো দেখা গেছে।
তিন নম্বর ভবনের ৩৬টি ফ্ল্যাটে সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা থাকছেন। ছয় নম্বর ভবনের পাঁচটি ফ্ল্যাটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত পাঁচজন প্রসিকিউটর পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। বাকি ফ্ল্যাটগুলোতে তালা ঝুলেছে এবং মালামাল পড়ে আছে।
সংসদ সচিবালয় জানায়, সংসদ বর্তমানে নেই এবং কার্যক্রমও স্থগিত। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন সংস্কারে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই তা শেষ করতে চায়। নতুন সংসদ-সদস্যদের জন্য ফ্ল্যাটগুলোও সংস্কার করা হবে।
তবে সাবেক সংসদ-সদস্যদের মালামাল ও আসবাবপত্রের ভাগ্য এখনো নির্ধারণ হয়নি। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, এই ভবনগুলোর দেখভাল এখন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। কিছু ফ্ল্যাটে সরকারি কর্মকর্তারা অনুমতি নিয়ে বসবাস করছেন।
আকাশজমিন / আরআর