ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

শিক্ষক কর্মবিরতি: প্রাথমিক-মাধ্যমিক বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত


শিক্ষক কর্মবিরতি: প্রাথমিক-মাধ্যমিক বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত

  • আপলোড সময় : সোমবার ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১১:২৫ এএম

দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন, যার কারণে প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা আজ থেকে স্থগিত হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকরা চলমান বার্ষিক পরীক্ষা এবং নির্বাচনী পরীক্ষা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই স্তরের শিক্ষকদের পৃথক দাবিতে টানা কর্মবিরতির ফলে সারা দেশে শিক্ষাপঞ্জি ভেঙে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-গ্রেড, পদোন্নতি, কর্মপরিবেশসহ নানা দাবি সরকারি পর্যায়ে উপেক্ষিত হচ্ছে। এ কারণে তারা বাধ্য হয়েই কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। অভিভাবকরা যদিও দাবি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, তবুও বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পৃথক দাবিতে আন্দোলন করলেও পরিস্থিতি এমন যে দুই স্তরের শিক্ষকরাই একই সময়ে কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতে একত্রিত হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল উন্নয়ন, ১০ ও ১৬ বছরের কর্মজীবনে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। প্রায় সাড়ে তিন লাখ প্রাথমিক শিক্ষক সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখেছেন। তারা জানিয়েছিলেন, ৩০ নভেম্বর রাতের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করবেন।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের চার দফা দাবি রয়েছে—৯ম গ্রেডে এন্ট্রি, ক্যাডারভুক্তি, টাইমস্কেল, পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা। গত সপ্তাহ থেকে তারা শিক্ষা ভবন ঘেরাও করে দুই দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সরকারের কাছ থেকে কোনো সমাধান বা স্পষ্ট আশ্বাস না পেয়ে তারা ঘোষণা করেছেন– আজ থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি, চলমান বার্ষিক পরীক্ষা ও এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন এবং খাতা মূল্যায়নেও অংশ নেবেন না। শিক্ষক নেতারা জানান, দাবি বাস্তবায়ন হলে ডিসেম্বরের মধ্যেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও পরীক্ষা এবং ফল প্রকাশ সম্ভব।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি চলছে। সরকার সময়মতো দাবি পূরণ না করলে পরীক্ষাও বর্জন ছাড়া উপায় নেই। সংগঠনের আরেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, পে-কমিশনের সঙ্গে আমাদের দাবির সম্পর্ক নেই। তবে সরকার চাইলে একদিনেই সমাধান সম্ভব।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি নিয়ে জানায়, চলমান কর্মসূচি ‘সরকারি চাকরি আইন’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা’-এর পরিপন্থি। শিক্ষার্থীর স্বার্থে কর্মবিরতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডের আলোকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি যৌক্তিক। ১০ নভেম্বর বৈঠকে বিষয়টি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারও বিষয়টি সরাসরি অনুসরণ করছেন।

দাবি আদায়ে পরীক্ষা বর্জন নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ১ ডিসেম্বর থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। কোনো গাফিলতি বা শৈথিল্য দেখা দিলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন্ট্রি পদে ৯ম গ্রেডসহ চার দফা দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছেন, আজ থেকে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন এবং চলমান বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন করবেন। তবে দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক, নির্বাচনী ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। মাউশি নির্দেশ দিয়েছে, সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষা যথাসময়ে সম্পন্ন নিশ্চিত করবেন।

শিক্ষক ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীরা সারা বছর প্রস্তুতি নিয়েও শেষ মুহূর্তে পরীক্ষার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন বন্ধ হওয়া শিক্ষার্থীর প্রতি অন্যায়। তাদের মতে, শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন, মানসিক চাপ এবং প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মাউশি মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষকদের দাবির গুরুত্ব আমরা বুঝতে পারি। তবে শিক্ষার্থীর স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়গুলোকে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখবেন এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও উজ্জ্বল হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর