রাজধানীর সচিবালয় রেলস্টেশনে মেট্রোরেলের দুই কোচের ফাঁক দিয়ে ছাদে উঠে পড়া কিশোরের পরিচয় মিলেছে। তার নাম ইয়াসিন। রোববার রাত ৮টার পর আগারগাঁও স্টেশন থেকে টিকিট কেটে মেট্রোরেলে ওঠে সে। সচিবালয় স্টেশনে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, দুই বগির মাঝের হুক ধরে ঝুলে আছে ইয়াসিন। কিছুক্ষণ পর কিশোরটি ট্রেনের ছাদে উঠে পড়ে।
তার সঙ্গে থাকা আরেক কিশোর রেললাইনের ওপর দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। নিরাপত্তা কর্মীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে ইয়াসিনকে ছাদ থেকে নিরাপদে নামান। ঘটনার পর মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, সচিবালয় স্টেশনে দুই ব্যক্তি মেট্রোরেলের ছাদে ওঠার কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিরাপত্তা ফাঁকি দিয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠা দুই কিশোরের মধ্যে একজনকে আটক করা সম্ভব হলেও অন্যজন পালিয়ে গেছে। তার পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএলের সূত্রে জানা গেছে, কিশোরটির বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছর হবে। প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে, সে কোনো শিশুসদনে ছিল। কিছুটা মানসিকভাবেও অপ্রকৃতিস্থ বলে মনে করা হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেট্রোরেলের লাইনের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কেবল (ক্যাটিনারি সিস্টেম) রয়েছে। ট্রেনের ছাদের সঙ্গে ওই তার যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয়। কিশোরটি যেভাবে ছাদে উঠেছে, তাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মেট্রোরেল চালুর পর এ ধরনের ঘটনা আর ঘটেনি। তাই বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএমটিসিএল বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ট্রেন চলাচলের নিয়মিত তত্ত্বাবধান অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও লাইনের চারপাশে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটানোর জন্য মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।