রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর সচিবালয় স্টেশনে এক কিশোর মেট্রোরেলের দুই কোচের ফাঁক দিয়ে ছাদে উঠে পড়েছিল। দ্রুত নিরাপত্তা কর্মীদের介নায় তাকে ছাদ থেকে নামানো হলেও পুরো মেট্রোরেল লাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। কারণ, মেট্রোরেলের ছাদে কেউ ওঠলে পুরো ট্রেন ও লাইন পরীক্ষা করতে হয়। এতে অসংখ্য যাত্রী চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েন।
বাংলাদেশের অন্যান্য ট্রেন, বিশেষ করে ডিজেলচালিত ট্রেনের ছাদে মানুষ ওঠার দৃশ্য অভ্যাসের বিষয়। প্রতিবার ঈদ বা বিশ্ব ইজতেমার সময় এমন ছবি সংবাদপত্রে দেখা যায়। তবে মেট্রোরেল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি বিদ্যুৎ–চালিত এবং ছাদের ঠিক ওপরে থাকে অত্যন্ত শক্তিশালী বিদ্যুতের তার, যা ট্রেনকে চলাচলের জন্য শক্তি সরবরাহ করে। এই তারের মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার দূরে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সেকেন্ডের মধ্যে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মেট্রোরেল তুলনামূলক দ্রুতগতিতে চলে এবং তার ছাদ পিচ্ছিল। এক মুহূর্তের হোঁচট খেলেও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া মেট্রোরেলে ছাদে ওঠা মানে পুরো সিস্টেমকে বন্ধ করা। নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেন, লাইন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। ফলে যাত্রীদের চলাচল অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকে।
ডিজেলচালিত ট্রেনের ছাদে ওঠার সঙ্গে মেট্রোরেলের ছাদে ওঠার ঝুঁকি তুলনা করা যায় না। ডিজেলচালিত ট্রেনে বিদ্যুতের ঝুঁকি থাকে না, কিন্তু মেট্রোরেলের ছাদের উপরে থাকা উচ্চ ভোল্টেজের তারে সরাসরি সংস্পর্শ মৃত্যু–ঝুঁকি বহন করে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মেট্রোরেলের ছাদ কোনো খেলার জায়গা নয়। এক মুহূর্তের অবহেলা জীবনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। তাই যাত্রীরা নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি নিরাপদভাবে মেট্রোরেল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষও নিয়মিত সতর্কতা প্রচার করছে। স্টেশনগুলোতে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং সতর্কতা লিফলেট বিতরণ করা হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা যাত্রীদের ছাদের বদলে বৈধ এবং নিরাপদ ব্যবস্থায় যাত্রা নিশ্চিত করতে তৎপর।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় প্রমাণিত হলো, মেট্রোরেলের ছাদে উঠা কেবল ব্যক্তিরই নয়, পুরো যাত্রী ও ট্রেন ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যাত্রীরা সচেতন হলে দুর্ঘটনা এবং যাত্রীর ভোগান্তি দু’ই এড়ানো সম্ভব। সবশেষে, মেট্রোরেলের ছাদে ওঠার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষামূলক প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে চলা ও নিরাপদে যাত্রা করা, যাত্রীদের জীবনের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।