ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত ও বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ এর স্কুলিং মডেল বাতিলের দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা সোয়া এগারোটার দিকে এই অবরোধের ফলে মিরপুর সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা তীব্র ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। বহু মানুষ বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন।
সায়েন্সল্যাব মোড় ঘিরে এই অবরোধের কারণে এলিফ্যান্ট রোড থেকে মিরপুর সড়কে প্রবেশের পথ বন্ধ ছিল। একইসঙ্গে নীলক্ষেত–নিউমার্কেট থেকে ধানমন্ডিমুখী সড়ক এবং ধানমন্ডি থেকে নীলক্ষেত–নিউমার্কেটগামী সড়কেও যান চলাচল স্থবির হয়ে ছিল। বাস, প্রাইভেটকার, রিকশা—সব ধরনের গাড়ি আটকে থাকায় অনেক যাত্রী পায়ে হেঁটে চলেছেন।
রাসেদুল ইসলাম নামের এক দোকান কর্মচারী বলেন, “ধানমন্ডি পর্যন্ত জ্যাম ছড়িয়ে গেছে। গাড়ি চলছে না, তাই এখন পায়ে হেঁটেই নিউমার্কেটের দোকানের দিকে যাচ্ছি। হঠাৎ সড়ক বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে।”
আফসানা খাতুন নামের এক পথচারী জানান, “নিউমার্কেট থেকে বাসায় ফিরছিলাম, কিন্তু অবরোধের কারণে কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে হাঁটা শুরু করেছি। সায়েন্সল্যাব পাড় হয়ে সামনে থেকে গাড়িতে উঠবো।”
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা কলেজসহ অন্যান্য সরকারি কলেজ বহুদিনের ইতিহাস, স্বকীয়তা ও পরিচিতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। শত বছরের ঐতিহ্য, সুনাম এবং নিজস্ব শিক্ষা পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে তাদের পরিচিতি গড়ে উঠেছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর কারণে এই পরিচিতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মতামত না নিয়েই নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
সরকার রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে এই কলেজগুলোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো চাপিয়ে দিলে প্রশাসনিক জটিলতা, শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। কলেজগুলোর ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ড বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মতামত ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কারণে তারা সরাসরি আন্দোলনে নেমেছেন।
উপায় না দেখে সাধারণ পথচারীরা পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন। অবরোধের কারণে এলাকার মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই অফিস, বাজার ও অন্যান্য গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানিরাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অবস্থান ও সড়ক অবরোধের ফলে মিরপুর সড়কের যানজট ও জনভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলন মূলত শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান রক্ষার উদ্দেশ্যে। তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও তারা স্বীকার করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।