সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা সিদ্দিক, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকালে ঢাকার আদালতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মামলাটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল।
বেলা ১১টায় ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন রায় ঘোষণা করবেন। সকাল থেকে আদালতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রবেশমুখে পুলিশি তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান জানান, নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই প্লাটুন পুলিশও দায়িত্বে আছেন। দুই প্লাটুন বিজিবির সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। স্থানীয় সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। র্যাবের সদস্যরা রাস্তায় টহল দিচ্ছেন। নিরাপত্তা জোরদারের কারণে এখনো পর্যন্ত কোনো শঙ্কার সৃষ্টি হয়নি।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত এই তারিখ ধার্য করেছিলেন।
হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপ ছাড়া অন্য ১৪ আসামি হলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী মো. আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক চার সদস্য—মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন ও মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী; এছাড়া রাজউকের সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া রাখার কারণে আদালতের আশেপাশে শিথিলতা নেই। প্রবেশমুখে তল্লাশিচৌকি, বিজিবি মোতায়েন এবং র্যাবের টহল নিশ্চিত করছে যে, আদালতের আশেপাশে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না।
মামলার রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আদালত ও পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে। রায়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।
এই মামলায় রায় ঘোষণার ঘটনা দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মামলার সকল আসামি ও সংশ্লিষ্টদের আদালতে সঠিকভাবে উপস্থিত করা নিশ্চিত করা হচ্ছে।