নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও বাংলাদেশের কোনো ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন। তবে আইন অনুযায়ী, তিনি চাইলে আবেদন করে ভোটার হতে পারবেন এবং কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে ও প্রার্থী হতে পারবেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
সাংবাদিকরা তারেক রহমান ভোটার হয়েছেন কি না জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, তার জানা মতে, তিনি এখনো ভোটার নন। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে সচিব জানান, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নথি যাচাই করতে হবে। তবে যে কেউ আইন অনুযায়ী আবেদন করলে ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকে এবং নির্বাচন কমিশন চাইলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
এরপর সাংবাদিকরা জানতে চান, তারেক রহমান কি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। উত্তরে ইসি সচিব বলেন, “তিনি প্রার্থী হতে পারেন, যদি কমিশন সিদ্ধান্ত দেয়।” তিনি আরও জানান, ভোটার না হয়েও কিছু ব্যতিক্রম ঘটতে পারে, যেগুলো আইনেই উল্লেখ আছে। প্রয়োজন হলে কমিশন সেই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
কোন আইনের ভিত্তিতে কমিশন সিদ্ধান্ত দেবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, “আইনে আছে।” তবে সুনির্দিষ্ট কোন ধারা বা আইন তা মুখস্থ নেই বলে জানান তিনি। সাংবাদিকরা স্পষ্ট আইন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা নিবন্ধন আইনটি দেখে নিতে। আইন অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে আবেদন যাচাই করে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।
সচিব আখতার আহমেদ জানান, ভোটার হতে হলে প্রক্রিয়াগত যাচাই-বাছাই ও আইনগত মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তর তথ্য যাচাই করে। যদি সব শর্ত পূরণ হয়, তাহলে তাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কমিশনের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। কোনো আবেদন কমিশনে এলে তা মূল্যায়ন করা হয়। ব্যক্তিগত অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য। তারেক রহমানের বিষয়ে কমিশনের বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, তিনি দেশে না থাকলেও কি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব? জবাবে সচিব বলেন, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য আইনেই বিশেষ বিধান রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী অনলাইন আবেদন, দূতাবাস বা নির্ধারিত দপ্তরের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। সবকিছুই আইনের মধ্যেই করতে হয়, এবং কমিশন চাইলে তা কার্যকর করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলমান। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন করতে পারছেন। কমিশন এসব আবেদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেয়। তারেক রহমান চাইলে একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারবেন।
আকাশজমিন / আরআর