অনলাইন রিপোর্টার
দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মঙ্গলবারও শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে। এর ফলে দ্বিতীয় দিনের মতো স্থগিত থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ঘোষিত এই কর্মসূচিতে সারাদেশের শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক আবুল কাসেম মোহাম্মদ শামছুদ্দীন সোমবার সন্ধ্যায় পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, মঙ্গলবার আগের মতোই পরীক্ষা বর্জনসহ পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে। সোমবার দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় দিনের মতো স্বতঃস্ফূর্ত পরীক্ষা বর্জন ও কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সহকর্মী শহিদ ফাতেমা আক্তারের আত্মত্যাগ ও দুই শতাধিক সহকর্মীর রক্ত বৃথা যেতে দেব না। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আপাতত ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আগামীকালও লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের তিন দফা দাবি হলো—
১। সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে নির্ধারণ করা হোক।
২। ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ক জটিলতা দূরীকরণ করা হোক।
৩। সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা হোক।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলমান, কিন্তু এখনও মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষকরা তাদের দাবির প্রতি সরকারের মনোযোগ আকর্ষণে এই কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।
শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি ও পরীক্ষা স্থগিতের ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হলেও তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে অপরিহার্য।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশায় প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
আকাশজমিন / আরআর