ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,  ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিশাদ-মুস্তাফিজের আগুনে বোলিং, ১১৭ রানে গুটিয়ে আয়ারল্যান্ড


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৭ পিএম

পাঁচ ক্যাচে ইতিহাস গড়ে আয়ারল্যান্ডকে মাত্র ১১৭ রানে থামিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড শুরুতে পাওয়ার প্লেতে আগ্রাসী খেললেও শেষে এসে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে তাদের মিডল অর্ডার। রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত লেগস্পিন এবং মুস্তাফিজুর রহমানের নিখুঁত লাইন–লেন্থে আয়ারল্যান্ড ব্যাটিং ধস নামে। আর ফিল্ডিংয়ে নজির গড়েন তানজিদ হাসান তামিম। তিনি পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে গড়েন বিরল বিশ্বরেকর্ড।

ম্যাচের প্রথম ওভারেই মেহেদী হাসান ১৩ রান দিয়ে খরুচে শুরুর ইঙ্গিত দেন। আয়ারল্যান্ডের টিম টেক্টর চতুর্থ ওভারে দুই চার ও এক ছয়ে ১৪ রান তোলেন। তবে শরিফুল ইসলামের বলে টেক্টর (১৭) আউট হলে প্রথম ধাক্কা খায় সফরকারীরা। এরপর পঞ্চম ওভারের শেষ বলে হ্যারি টেক্টর সিঙ্গেল নিয়ে আয়ারল্যান্ডকে ৫০ রানে পৌঁছে দেন। সেই ওভারে তারা ১২ রান সংগ্রহ করে।

বল হাতে নেমেই মুস্তাফিজুর রহমান দ্বিতীয় ডেলিভারিতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। পাওয়ার প্লেতে মেহেদী ও শরিফুল ছিলেন খরুচে, তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মুস্তাফিজ দুর্দান্ত বোলিং করেন। হ্যারির অদ্ভুত আউটটি ম্যাচে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়। সামনের পায়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট চালানোর পর বল ব্যাটে লেগে স্টাম্পের দিকে গড়িয়ে যায়। ব্যাটার চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেননি; বল স্টাম্পে আঘাত করে। মুস্তাফিজ ওই ওভারে মাত্র এক রান দেন। ফলে পাওয়ার প্লে শেষে আয়ারল্যান্ড দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৫১ রানে।

প্রথম ৬ ওভার পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। পল স্টার্লিং এক প্রান্ত ধরে রাখলেও অন্য প্রান্তে ছিল ব্যাটারদের একের পর এক আসা–যাওয়ার মিছিল। লরকান টাকার, কুর্তিস ক্যাম্পার—কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। রিশাদ হোসেনের টানা আক্রমণে চাপ বাড়তেই থাকে।

শেষদিকে জজ ডকরেল ও গ্যারেথ ডেলানি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ডেলানি ১০ রান ও ডকরেল ১৯ রান করে আউট হন। ১৯ ওভার ৫ বল খেলে সব উইকেট হারিয়ে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১১৭ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন পল স্টার্লিং।

বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। দুর্দান্ত লেগস্পিনে তিনি আয়ারল্যান্ডকে একের পর এক বিপদে ফেলেন। ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ছিল ৪ ওভারে মাত্র ২১ রানে ৩ উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমানও নিয়ন্ত্রণী বোলিং করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট এনে দেন।

এদিকে তানজিদ হাসান তামিমের পাঁচ ক্যাচ ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। আউটফিল্ডে পাঁচটি ক্যাচ নেওয়া টি-টোয়েন্টিতে বিরল ঘটনা। এ পর্যন্ত মাত্র তিনজন ক্রিকেটারের এই রেকর্ড রয়েছে—সুইডেনের সেদিক সাহাক, মালদ্বীপের ওয়েদাগে মালিন্দা ও বাংলাদেশি তানজিদ হাসান তামিম। তবে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র তামিমই এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন।

বাংলাদেশের বোলিং, ফিল্ডিং ও কৌশলগত শৃঙ্খলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেছে। শুরুতে ব্যাটসম্যানদের আগ্রাসন সত্ত্বেও মিডল অর্ডারের পতন এবং রিশাদ-মুস্তাফিজদের বোলিং ম্যাজিকেই শেষ পর্যন্ত ১১৭ রানে থেমে যায় আয়ারল্যান্ড।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর