অনলাইন রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব ও আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম আজ বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন–সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলমান থাকার মধ্যেই এই রিট দায়ের হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম জানান, রিটটি বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপ ইতিমধ্যে শুরু হলেও এতে কিছু সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক অসঙ্গতি রয়েছে বলে তাঁর দাবি। এসব কারণেই নির্বাচন–সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোট নেওয়া হবে। সরকারের এই ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি জোরদার করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গত শনিবার জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সেই হিসেবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতেই নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার কথা।
নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ–সংক্রান্ত নীতিমালা, কেন্দ্রগুলোর তালিকা, নিরাপত্তা প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। তবে রিট আবেদনের কারণে এসব প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রিটে বলা হয়েছে, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত নয় এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিবেশও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই নির্বাচন–সংক্রান্ত সব কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রিটটি গৃহীত হলে নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সময়সূচি ও পরিকল্পনার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য তারিখও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে রিটটি।
তবে নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিই নিচ্ছেন। রিটের বিষয়ে তারা আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবেন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এমনিতেই নির্বাচনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য প্রার্থী, জোটবদ্ধতা, তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময়—এসব গণনা নিয়ে ব্যস্ত। এর মধ্যে নির্বাচন–সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে নতুন রিট রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হাইকোর্ট ভবনের সামনে আইনজীবীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল রিট দায়েরের সময়। রিট গ্রহণ করা হলে রাষ্ট্রপক্ষ, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের প্রতিনিধিদের ব্যাখ্যা চাইতে পারে আদালত। সবমিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আইনি প্রক্রিয়া যোগ হলো।