ঢাকা কলেজের সামনে মিরপুর সড়ক অবরোধ করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার সকাল থেকে বিক্ষোভ করছেন। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫-এর চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে মিরপুর সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। নিউমার্কেট, আজিমপুর, সিটি কলেজ মোড়, ধানমন্ডি ২৭ পর্যন্ত তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে অফিসগামী মানুষ, সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
সকাল থেকেই ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা ঢাকা কলেজ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি আজিমপুর মোড় প্রদক্ষিণ শেষে আবার ঢাকা কলেজের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং সড়ক পুরোপুরি অবরোধ করে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ গাড়ির সারি তৈরি হয়। বাস, প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তিন দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাদের দাবি, দেড় লাখের বেশি শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরীক্ষার কাঠামো, সেশনজট, ডিগ্রি স্বীকৃতি—সবকিছু ঝুলে আছে অধ্যাদেশের প্রকাশের ওপর। তারা বলেন, চলমান পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, চাকরির প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে স্থবির করে দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই সড়কে নামতে হয়েছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা তিনবার আলোচনায় বসেছি, কিন্তু কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাইনি। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে সময়ক্ষেপণ করা হলে আমরা কীভাবে পড়াশোনা করব?” আরেকজন বলেন, “আমরা সড়কে নামতে চাইনি। কিন্তু আমাদের কথা শোনার কেউ নেই। অধ্যাদেশ জারি না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
অবরোধের কারণে নিউমার্কেট এলাকায় পরিস্থিতি এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেন। পথচারীরা জানান, কয়েক কিলোমিটারের পথ অতিক্রম করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। জরুরি রোগী পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হয়। বিকল্প সড়ক দিয়ে যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চাপ সামলানো যায়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কোনো ধরনের নাশকতার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। তারা শুধু তাদের একটাই দাবি—অধ্যাদেশ দ্রুত জারি করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে, সড়কে আটকে থাকা যাত্রীদের অনেকেই মনে করেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক হলেও সড়ক অবরোধে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। কেউ কেউ সরকারের প্রতি দ্রুত সমাধানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যাতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমে।
আকাশজমিন / আরআর