ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরলো বঙ্গবন্ধুর একক ছবি, যুক্ত হলো জিন্নাহ ও জুলাই অভ্যুত্থান মমেকের ৩য় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস শিল্পে গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার থেকেই স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে কোটি টাকার হিসাব ছাড়াল ১ লাখ ৪১ হাজার কাশফুল শুধু সৌন্দর্য নয়, অনেকের জীবিকাও বটে তাড়াশে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৮টি গরু চুরি, নিঃস্ব কৃষক পরিবার ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৭৩৩ জন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের অনানুষ্ঠানিক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা চারবার গুলিবিদ্ধ ও তিনবার কারাবরণ: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় ইশরাক অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান

‘তামাশার নির্বাচন’ নয়, দৃষ্টান্তের নির্বাচন চাই: ড. ইউনূস


‘তামাশার নির্বাচন’ নয়, দৃষ্টান্তের নির্বাচন চাই: ড. ইউনূস

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:১৮ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

অতীতের ‘তামাশার নির্বাচন’ থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আমাদের অতীতের ইতিহাসে কিছু নির্বাচন আছে যা মনে হলেই চোখে ভেসে ওঠে—প্রহসনের নির্বাচন, প্রতারণার নির্বাচন, তামাশার নির্বাচন। এসব বিশেষণ যেন আর বাংলাদেশের নির্বাচনের সঙ্গে না জুড়ে যায়। এখন সময় এসেছে সেই অমানবিক অভিজ্ঞতার বাইরে যাওয়া এবং নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করার। এ জন্য আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৬৪ জেলার পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল—কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব যেন কাজ না করে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষায়, নিজের ওপর ছেড়ে দিলে কখনো কখনো শত সতর্কতা সত্ত্বেও পক্ষপাতিত্ব ঢুকে পড়ে। দৈবচয়ন এসেছে এই কারণেই, যাতে কারো মধ্যে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব না থাকে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু এবারের নির্বাচন আপনাদের জন্য ইতিহাসগর্ভ দায়িত্ব। এই নির্বাচনকে এমনভাবে সফল করতে হবে যেন দেশের মানুষ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, যাঁরা আসবেন—সবাই এই নির্বাচনকে স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা যেন বলতে পারেন—বাংলাদেশের নির্বাচন আমরা দেখেছিলাম, আর সে নির্বাচন ছিল অন্যরকম। তারা বিশ্বমঞ্চে উদাহরণ হিসেবে এই নির্বাচনকে তুলে ধরবে।”

তিনি বলেন, বাইরের পর্যবেক্ষকরা খুঁটিনাটি দেখবেন, কোথায় ঘাটতি, কোথায় কাজ আরও ভালো করা যেত—সবকিছুই তাদের নজরে থাকবে। তাই এই নির্বাচন যেন ‘দৃষ্টান্তের নির্বাচন’ হয়, এমন নির্বাচন যা ভবিষ্যতে কেউ ভুলতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, এটা সাধারণ নির্বাচন নয়। পাঁচ বছর পরপর সরকারের মেয়াদ শেষে যে রুটিন নির্বাচন হয়, এটি তার মতো নয়। এবারের নির্বাচন গণঅভ্যুত্থানের পর হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব বহুগুণ বেশি। গণঅভ্যুত্থানে যারা শরিক হয়েছিল, যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল—তাদের সেই স্বপ্ন পূরণের একটি বড় ধাপ হচ্ছে এই নির্বাচন। এই নির্বাচন তাদের আদর্শ ও প্রত্যাশাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার উপায়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের স্বপ্ন দেখেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের যাত্রায় এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বও তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ কীভাবে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করে। পুলিশ প্রশাসনের ওপর তাই বিশেষ দায়িত্ব বর্তায়—সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিক বিবেচনায় দায়িত্ব পালন করার।

তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল ধরনের সহায়তা থাকবে এবং ন্যায়সঙ্গত কাজের জন্য কোনো চাপ সহ্য করতে হবে না। নির্বাচন যেন নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য হয়—এটাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

শেষে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন এমন হতে হবে যেন জনগণ গর্ব করতে পারে, বিশ্ব গর্ব করতে পারে, আর ভবিষ্যতে এই নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনা যায়—এমন নির্বাচন আমরা করতে চাই।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর