অনলাইন রিপোর্টার
আগামী ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছে এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কমিশন ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন ঘিরে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আগামী ৭ ডিসেম্বর তফসিল নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। ওই সভায় তফসিলের সম্ভাব্য সময়সূচি, ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ, মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই–বাছাই, প্রতীক বরাদ্দসহ সমগ্র প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এক নির্বাচন কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। এর দুয়েক দিনের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে।” এ মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নির্বাচন ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, কমিশন সভায় তফসিলের সময়সূচি নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হবে এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, রবিবারের (৭ ডিসেম্বর) বৈঠকের পর সেই সপ্তাহের যেকোনো দিন তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, কমিশন খুব দ্রুতই নির্বাচনী সময়সূচি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে।
ইসি সূত্র জানায়, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে— অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর, ৯ ডিসেম্বর, ১০ ডিসেম্বর কিংবা ১১ ডিসেম্বর— যেকোনো একদিন সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেকোনো একদিন। এ সময়সীমা বিবেচনায় ইসি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার খবরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক দল প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, জোটবদ্ধ হওয়া, প্রচারণা পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিন্যাসে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশে নির্বাচন–কেন্দ্রিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগেও তৎপরতা দেখা গেছে। কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লজিস্টিক সহায়তা এবং ইভিএম ব্যবহারের সম্ভাব্যতা নিয়েও আলোচনা চলছে।
প্রথমবারের মতো নির্বাচন পরিচালনায় কমিশন বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নয়নও বিবেচনায় রেখেছে, যাতে ভোট ও ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভুল থাকে। সবশেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকেই ইসির চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা তফসিল ঘোষণার পথ খুলে দেবে।
আকাশজমিন / আরআর